পূজার ছুটির পর আবার প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস। গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর ফের ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনি উত্তাপ।
শিক্ষার্থীদের প্রচারে জমে উঠছে ভোটের পরিবেশ। প্রার্থীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কাড়তে নিচ্ছেন একের পর এক ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল কৌশল। নির্বাচন যেন শুধু ভোটযুদ্ধ নয়, রীতিমতো এক উৎসব। কেউ গাইছেন গান, কেউ সাজছেন ঐতিহাসিক চরিত্রে, আবার কেউ তৈরি করছেন ব্যতিক্রমী আকৃতি ও নকশার প্রচারপত্র।
ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম প্যানেলের ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবীর প্রচারণার জন্য বেছে নিয়েছেন ‘প্রজাপতির’ অনুকরণে নকশা করা লিফলেট। অন্যদিকে একই প্যানেলের এজিএস পদপ্রার্থী জাহিন বিশ্বাস এষা প্রচারপত্র তৈরি করেছেন হাতের পাঁচ আঙুলের আদলে। একই দলের সংস্কৃতি সম্পাদক পদপ্রার্থী আবদুল্লাহ আল কাফী সেজেছেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার বেশে।
শিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী জায়িদ হাসান জোহা প্রচারে সেজেছেন কৃষক আর গাইছেন গম্ভীরা গান।
আধিপত্যবিরোধী ঐক্য প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী সালাউদ্দিন আম্মার তৈরি করেছেন দৈত্যরূপী প্রচারণা পোস্টার। সঙ্গে থাকছে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারপত্র, যাতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবির আদলে ব্যঙ্গচিত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
সহমিডিয়া সম্পাদক পদপ্রার্থী নূর নবী প্রচারে এনেছেন আবেগের ছোঁয়া, তিনি তার মাকে নিয়ে করছেন গণসংযোগ।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নজর কেড়েছেন কাজী সফিউল কালাম (কেএসকে হৃদয়)। তিনি গান গেয়ে গেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচার চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ছাত্রদল সমর্থিত এজিএস পদপ্রার্থী জাহিন বিশ্বাস এষা বলেন, নির্বাচনে আমাদের অনেক ব্যালট নম্বর মনে রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে, ইউনিক কিছু একটা করি। যেন শিক্ষার্থীরা মনে রাখতে পারেন। আমার ব্যালট নম্বর যেহেতু ৫, সে ক্ষেত্রে আমি হাতের আদলে লিফলেট বানিয়েছি। সেখানে পাঁচটি আঙুলের ওপর আমি ইশতেহার দিয়েছি। অন্য পাশে বাসের শিডিউল দিয়েছি যেন শিক্ষার্থীদের উপকারে আসে। এটা শিক্ষার্থীরা অনেক ভালোভাবে নিচ্ছে।
কৃষক বেশে প্রচারণা চালানো শিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী জায়িদ হাসান জোহা বলেন, আমি যেহেতু সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচন করছি। তাই ভেবেছি প্রচারণায় একটু বৈচিত্র্য আনার। বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক যে বৈচিত্র্যগুলো রয়েছে সেগুলো যেন আমার প্রচারে উঠে আসে। এটাকে একই সঙ্গে অনেক মানুষের মধ্যে রিচ করা যাবে এবং সংস্কৃতিও ফুটে উঠবে।
নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাজে প্রচার চালানোর কারণ জানতে চাইলে ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্মের সংস্কৃতি সম্পাদক পদপ্রার্থী কাফী বলেন, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব। তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা করতে, কিন্তু নানা ষড়যন্ত্রের কারণে পরাজিত হন। আজ আমি তার সাজে শুধুই প্রচার চালাতে আসিনি, এসেছি একধরনের প্রতিবাদের জায়গা থেকে।’
তিনি আরো বলেন, ‘মনে হচ্ছে, আমাদের বর্তমান সংস্কৃতির ওপর আবারও কোনো লর্ড ক্লাইভের আক্রমণ নেমে এসেছে। সে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবেই আমি ভোটারদের কাছে এসেছি। যেন পলাশীর যুদ্ধে নবাব হেরে গেলেও এ নির্বাচনে আমায় যেন তারা হারতে না দেন। নির্বাচিত হতে পারলে আমি ক্যাম্পাসে মুক্ত ও প্রগতিশীল সংস্কৃতি চর্চা আবারও জোরদার করতে চাই।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

