সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের মিমিক্রি ভিডিও নিয়ে চাকসু ভিপি ও শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল। একই সঙ্গে ভিডিওটি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, অবৈধ আসন বরাদ্দ বাতিল, নিরাপদ ক্যাম্পাস, চিকিৎসাসেবা ও পরিবহন সংকটসহ বিভিন্ন মৌলিক সমস্যা সমাধানের দাবি জানায় ছাত্রদল। পাশাপাশি বিসমিল্লাহির রহমানির রহিমকে ব্যঙ্গ এবং বেগম খালেদা জিয়ার বাচনভঙ্গি অনুকরণের অভিযোগ তুলে চাকসু ভিপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটি।
লিখিত বক্তব্যে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রেখেছিল। তবে অন্য ছাত্রসংগঠনগুলো যখন রাজপথে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল, তখন ছাত্রশিবির ছাত্রলীগের সঙ্গে গোপন সমঝোতা ও ক্ষমতাসীন ব্যবস্থার সঙ্গে সহাবস্থানের কৌশল নিয়েছিল। এ ধরনের রাজনীতির কারণে ক্যাম্পাসগুলোতে অবিশ্বাস, সন্দেহ ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ২০২০ সালের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার বাচনভঙ্গি অনুকরণের দৃশ্য দেখা যায়। সে সময় বেগম খালেদা জিয়া ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকা অবস্থায় তাকে নিয়ে এ ধরনের ব্যঙ্গাত্মক পরিবেশনা অসম্মানজনক।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হল দখল, ক্যাম্পাস অবরুদ্ধ রাখা এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দাউদ সালমানের ওপর মব সৃষ্টির মাধ্যমে দলীয় স্বার্থ হাসিলের চেষ্টার অভিযোগও চাকসু ভিপির বিরুদ্ধে আনে ছাত্রদল।
সংবাদ সম্মেলনে ছয় দফা দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, চাকসু ভিপির মিমিক্রি ভিডিও নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন ও তদন্তের ফল প্রকাশ; বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও চাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ; ভিডিওতে উপস্থাপিত বিষয়গুলোর জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া;
ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ছাত্রশিবিরের ভূমিকা ও গোপন রাজনীতি নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া; ক্যাম্পাসে স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য ছাত্ররাজনীতির পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নারী শিক্ষার্থীদের চরিত্রহনন ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক পেজগুলোর অ্যাডমিন শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এদিকে, ভিডিওটি নিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইব্রাহিম হোসেন রনি। তিনি জানান, ভিডিওটি ২০২০ সালে ইতিহাস বিভাগের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ধারণ করা হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে তিনি হানিফ সংকেত, বেগম খালেদা জিয়া, ওবায়দুল কাদেরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও শিল্পীর কথা বলার ধরন অনুকরণ করে অভিনয় করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, এটি ছিল বিনোদনমূলক পরিবেশনা। কাউকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করা বা বিদ্বেষ প্রকাশ করা এর উদ্দেশ্য ছিল না। আর মূল পরিবেশনা থেকে শুধু বেগম খালেদা জিয়ার অংশ কেটে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তার বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

