ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ সমর্থিত প্যানেল থেকে সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আব্দুল ওয়াহেদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আরবি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ও মাস্টারদা সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। আমার দেশকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান ধর্মবিদ্বেষ, হিজাব ফোবিয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করব। এছাড়া নিরাপত্তা সংকট ও নিম্নমানের শিক্ষা পরিবেশের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেব। ডাকসুর এই ভিপি প্রার্থী বলেন, নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আবাসন, মানসম্মত শিক্ষা ও নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উপমহাদেশের মুসলিম ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক গৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠার কাজ চালিয়ে যাব।
বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান সমস্যার বিষয়ে আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সংকটগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আবাসন সংকট। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে, বাকি শিক্ষার্থীরা হলের বাইরে থাকতে গিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। তারা ডিপ্রেশনে ভোগে। নিরুপায় হয়ে উঠলে গণরুম সৃষ্টি হয়। সে সুযোগে ক্ষমতাসীনরা গেস্টরুম কালচার তৈরি করে। এছাড়া সার্বিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খুবই নিম্নমানের জীবনযাপন করছে। তারা নিরাপদ খাদ্য পাচ্ছে না, মানসম্মত আবাসন পাচ্ছে না, শিক্ষার পরিবেশও সন্তোষজনক নয়, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা নেই। পাশাপাশি পরিবহন সমস্যা এবং নিরাপত্তা সংকটও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বড় সংকট।
আপনি নির্বাচিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমন পরিবর্তন আনতে চান— এমন প্রশ্নের উত্তরে ডাকসুর এই ভিপি প্রার্থী বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে কোনো কালচারাল হেজেমনি তৈরি হতে দেব না। ভারতীয় আধিপত্যবাদী সাংস্কৃতিক হেজেমনির বিরুদ্ধে আমি দৃঢ় অবস্থান নেব। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ধর্মবিদ্বেষ বিরাজ করছে, তা রুখে দাঁড়াব। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ধর্মবিদ্বেষ এবং হিজাববিরোধী মনোভাব বিরাজ করছে, তার বিরুদ্ধে আমি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করব। এছাড়া উপমহাদেশের ইতিহাসের বিকৃত উপস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেব। ১৯৪৭ থেকে শুরু করে সব গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ও ঐতিহাসিক ঘটনার দিবসগুলো আমরা পালন করব এবং এর গুরুত্ব সবার সামনে তুলে ধরব।’
আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ একাডেমিক পরিবেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে চাই, যা বিশ্বমানের র্যাংকিংয়ে শীর্ষ ১০০ এর মধ্যে থাকবে। এজন্য শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে। রাজনৈতিক নিয়োগের পরিবর্তে বিশ্বমানের স্কলারদের নিয়োগ দিতে হবে এবং মেধাবীদের মূল্যায়ন করতে হবে। বেতন কাঠামোতেও বিশেষ পরিবর্তন আনতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে একাডেমিক ও গবেষণামুখী নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে প্রথমেই ৭৩-এর অধ্যাদেশ বাতিল করতে পদক্ষেপ নেব এবং শিক্ষকদের রাজনৈতিক দলাদলির সুযোগ বন্ধ করা হবে। গবেষণামুখী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি করা হবে।’
বিগত ডাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের সময় আমরা দেখেছি, ছাত্রলীগ একক আধিপত্যের মাধ্যমে ব্যালট বক্স লুফে নিয়েছিল। কৃত্রিম লাইন সংকট তৈরি করে তারা হল দখল করেছিল। তবে এবারের নির্বাচনের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন; এখন সবাই সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারছে এবং মতপ্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে সম্পূর্ণ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রয়েছে।’
জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদ জানিয়ে ভিপি প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, “ফ্যাসিবাদ আমলে ছাত্রলীগের নির্যাতনের কারণে আমি হলে থাকতে পারিনি। ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তারপরও আমি প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় থেকেছি। সর্বশেষ জুলাই বিপ্লবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে মাঠে নেমেছিলাম। বিপ্লবকে বাঁচাতে আমরা ‘বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ’ নামে একটি সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেছি। এর উদ্যোগে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণের দাবিতে বিশাল কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আমি টানা ৩৬ দিন অনশন করেছি।”
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ডাকসু নির্বাচন: ৩৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে ঢাবির প্রবেশ পথ