রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদ নিয়ে চাকরির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্তে উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব শিক্ষকের বিএড সনদ বর্তমানে বন্ধ ঘোষিত দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত বলে জানা গেছে। সার্টিফিকেট বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগে ২০১৬ সালে হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
দুদকের নোটিস সূত্রে জানা যায়, আগামী ১ অক্টোবর অভিযুক্ত শিক্ষকদের বক্তব্য গ্রহণ ও সনদ যাচাই করা হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সনদের মূলকপি ও অন্যান্য কাগজপত্রসহ স্কুলটিতে তাদের উপস্থিত থাকতে বলেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক বরাবর পাঠানো দুদকের ‘অতীব জরুরি’ নোটিসে শুনানির বিষয়টি জানানো হয়।
এতে বলা হয়, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভুয়া/জাল সনদ ব্যবহার করে শিক্ষকতা/চাকরি করার অভিযোগ বিষয়ে অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আখতারুজ্জামানকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে বর্ণিত অভিযোগ বিষয়ে শিক্ষকদের বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। নোটিসে বর্ণিত তারিখ ও সময়ে তাদের মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে (বিএড সনদের মূলকপি ও এক সেট ফটোকপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ) উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে সবিনয়ে অনুরোধ করা হলো। কোনো শিক্ষক জরুরি কোনো কারণে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হলে তার বিএড সনদের মূলকপি ও এক সেট ফটোকপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি অধ্যক্ষের জিম্মায় রাখার অনুরোধ করা হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন—বনশ্রী শাখার ইংলিশ ভার্সনের সহকারী শিক্ষক রুবিনা সুলতানা, দিবা শাখার মো. সোলায়মান, প্রভাতী শাখার তাহমিনা ইয়াছমিন, কাবিউল ইসলাম, সেবিকা রানী পাল, দিবা শাখার নাহিদা আখতার, একই শাখার সালেহ আহমেদ, মোজাম্মেল হক, মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান, মাহফুজা হাসনা, সালমা খাতুন, সুস্মিতা আক্তার, অজিবর রহমান শেখ, রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ আবু বকর, মহিউদ্দিন, আজমল হোসেন, ফরিদুর রহমান শেখ, নূরজাহান, বনশ্রী শাখার সিরাজুল ইসলাম, মুহাম্মদ আল আমীন খান, মোহাম্মদ আফছার উদ্দিন ও মুগদা শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক এনএম মঞ্জুরুল হক। বাকি সবাই সহকারী শিক্ষক।
সূত্র মতে, এসব শিক্ষকের বিএড সার্টিফিকেটগুলো দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্যাম্পাস থেকে ২০০৯, ২০১০ ও ২০১১ সালে অর্জিত। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ ছিল। একপর্যায়ে ২০১৬ সালের হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়টির সব কার্যক্রম ও আউটার ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
জানা গেছে, আইডিয়ালের শিক্ষকের সনদ জালিয়াতির বিষয়ে দুদকে অভিযোগ করা হয়। সে অনুযায়ী বিষয়টি আমলে নিয়ে অভিযোগ যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এর বাইরেও আরো অনেক শিক্ষকের সনদ জাল থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে পতিত আওয়ামী সরকারের সময়ে বহু শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে আরো জোরালো তদন্ত দাবি করেছেন অভিভাবকরা।
২৩ শিক্ষকের সনদ জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ গতকাল আমার দেশকে জানান, এ বিষয়ে ১ অক্টোবর শুনানি করবে দুদক।
এসব শিক্ষকসহ আরো কোনো সনদ জালিয়াতি বা দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ থাকলে, তা যাচাইয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে অধ্যক্ষ আরো বলেন, দুদকের কার্যক্রম দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


