ট্রাম্পের সহায়তা বন্ধের আদেশে কর্মী ছাঁটাই ইউএসএআইডির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ট্রাম্পের সহায়তা বন্ধের আদেশে কর্মী ছাঁটাই ইউএসএআইডির

বিশ্বব্যাপী আমেরিকার অর্থায়নে পরিচালিত বৈদেশিক সাহায্য ও উন্নয়নের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্থগিতাদেশের ফলে ছাঁটাই ও ছুটির মুখে পড়েছেন হাজার হাজার কর্মী। পাশাপাশি অসংখ্য প্রকল্পও বন্ধ হয়ে গেছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ইউএসএআইডির দুই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। কারণ একে স্বাধীন সংস্থা হিসেবে বন্ধ করে দিয়ে একে পররাষ্ট্র দপ্তরের অধীনে আনতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। ধনকুবের ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সির (ডিওজিই) কয়েকজন প্রতিনিধি ইউএসএইডের গোপনীয় কিছু নথির সন্ধানে সংস্থাটির মূল ভবনে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানকার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ডিওজিইর প্রতিনিধিদের ভবনের একটি অংশে প্রবেশে বাধা দেন। এই অভিযোগের পরপরই ইউএসএইডের শীর্ষ দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয় বলে তিনটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া এজেন্সির লেজিসলেটিভ অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর প্রায় ৩০ ক্যারিয়ার কর্মী রাতারাতি তাদের ইমেল অ্যাক্সেস হারিয়েছেন, যার ফলে গত সপ্তাহে ছুটিতে থাকা ইউএসএআইডির জ্যেষ্ঠ ক্যারিয়ার কর্মীদের মোট সংখ্যা একশ’র কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে ট্রাম্প রোববার এক বিবৃতিতে বলেছেন, সংস্থাটি একদল উগ্র উন্মাদ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, তাই তাদের বহিস্কার করা হয়েছে।

এদিকে ডেমোক্র্যাটদের মতে, কংগ্রেসের অর্থায়নকৃত একটি স্বাধীন সংস্থা প্রেসিডেন্ট নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বন্ধ করতে পারেন না এবং ইউএসএআইডির কাজ দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ক্ষমতা নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন বৈদেশিক সহায়তা কার্যক্রম আগামী ৯০ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে প্রাধান্য দিয়ে নিজ দেশের ব্যয় কমাতেই এ উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তার এমন সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। হুমকির মুখে পড়েছে খাদ্য ও জীবনরক্ষাকারী বিভিন্ন প্রকল্প।

এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে ইউএসএআইডির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই ৯০ দিনের জন্য সব বিদেশি সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত রাখেন। এরপর স্টেট ডিপার্টমেন্ট বিশ্বব্যাপী প্রায় সব ধরনের বিদেশি সহায়তা বন্ধ করে দেয়, যার ফলে হাজার হাজার উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায় এবং কর্মীদের ছাঁটাই শুরু হয়।

রোববার হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভের পররাষ্ট্র-বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট বলেছেন, ইউএসএআইডিকে স্টেট ডিপার্টমেন্টের অধীনে স্থানান্তরকে সমর্থন করেন তিনি। কারণ এই সংস্থাটির আরো শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

এদিকে ইউএসএইড’কে একটি ‘অপরাধী প্রতিষ্ঠান’ বলে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন ট্রাম্পের মিত্র ধনকুবের ইলন মাস্ক। একই সঙ্গে এটিকে ‘উগ্র উন্মাদদের’ দ্বারা পরিচালিত সংস্থা বলেও অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এসব কথা লিখেছেন তিনি। মাস্ক আরও লিখেছেন, জনগণের করের অর্থ ব্যবহার করে ইউএসএআইডি জীবাণু অস্ত্র গবেষণা করেছে, যার মধ্যে করোনা মহামারি ছিল অন্যতম। আর এতে প্রাণ হারিয়েছে কয়েক মিলিয়ন মানুষ। মূলত ফেডারেল ব্যয় কমাতে ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী বৈদেশিক সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন। আর তাকে পুরোপুরি সমর্থন জানিয়েছেন মিত্র ইলন মাস্ক।

অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন (ডাব্লিওএইচও) থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার এই সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাম্পকে চাপ দিতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডাব্লিওএইচও প্রধান ট্রেডোস আধানম গেব্রেয়াসুস।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...