ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বোরকা-নিকাব পরিহিত এক নারী শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষিকা তাসনিম সিরাজ মাহবুবের কটাক্ষ করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।
বুধবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, এটি শুধু একজন শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান করার ঘটনা নয়; বরং এটি শিক্ষার্থীর ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদার প্রতি অবমাননাকর আচরণ, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক উচ্চশিক্ষার পরিবেশের পরিপন্থি।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ এমন একটি পরিসর, যেখানে মত, বিশ্বাস, চিন্তা, সংস্কৃতি ও জীবনাচরণের বৈচিত্র্যকে সম্মান করার মধ্য দিয়ে মুক্ত ও দায়িত্বশীল জ্ঞানচর্চার পরিবেশ গড়ে ওঠে। একজন শিক্ষার্থীর পোশাক কোনোভাবেই তাকে ‘সন্ত্রাসী’, ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ কিংবা অন্য কোনো অবমাননাকর অভিধায় চিহ্নিত করার ভিত্তি হতে পারে না। কোনো শিক্ষার্থীর ধর্মীয় অনুশীলন বা ব্যক্তিগত পছন্দকে কেন্দ্র করে তাকে হেয় করা, ভয় দেখানো কিংবা নেতিবাচকভাবে ফ্রেম করা শিক্ষকের পেশাগত দায়িত্ব ও নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো শিক্ষার্থীর পোশাক দেখে তার মেধা, চরিত্র, মনোভাব বা যোগ্যতা সম্পর্কে পূর্বধারণা তৈরি করা একাডেমিক ন্যায়বোধের পরিপন্থি। একজন শিক্ষক ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানচর্চা, সহনশীলতা, যুক্তিবোধ ও পারস্পরিক সম্মানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। শ্রেণিকক্ষ হবে সুচিন্তা ও মানবিকতার স্থান; অপমান, ভয়ভীতি বা মতাদর্শিক আধিপত্যের নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, এই প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষার্থীর প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। আমরা মনে করি, অভিযোগটির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও যথাযথ তদন্ত করা দরকার। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত বিধি ও নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রশাসনিক ও একাডেমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সবশেষে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক বলেছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীর মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


