আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের ক্যাম্পেইন

প্রতিনিধি, নোবিপ্রবি

গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের ক্যাম্পেইন

ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখা।

রোববার ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ব্যানার প্রদর্শন, ফটোবুথ স্থাপন এবং লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বর, প্রশান্তি পার্ক, শান্তিনিকেতন, পকেট গেট, গ্যারেজ, প্রশাসনিক ভবনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থানে প্রচারণা চালান। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মো. বনি ইয়ামিন বলেন, “দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। এই সংস্কার হতে হবে দেশের পাঁচ কোটি তরুণের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাইয়ের চেতনার ভিত্তিতে। সেই লক্ষ্যে তরুণ সমাজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নেবে বলে আমরা আশাবাদী। এরই ধারাবাহিকতায় নোবিপ্রবি শাখার উদ্যোগে এই ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আব্দুর রহমান বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে সহস্রাধিক শহীদ এবং অসংখ্য আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশের স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, তার পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনও হয়নি। এই নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব বাছাইয়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার এবং জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ফটোফ্রেম প্রদর্শন ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে গণভোটের গুরুত্ব ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছি।”

নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরিফুর রহমান সৈকত বলেন, “জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ছাত্র-জনতা যে ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার দাবি জানিয়েছিল, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং এটি রাষ্ট্র সংস্কার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।”

তিনি বলেন, “এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের পক্ষে মতামত দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।”

নেতৃবৃন্দ জানান, উক্ত ক্যাম্পেইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর বিজয়ের মধ্য দিয়ে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ সুগম হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন