ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির (প্লেজিয়ারিজম) অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এ কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং অভিযুক্ত অধ্যাপক ড. রিদওয়ানুল হকের একজন মনোনীত প্রতিনিধি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে অধ্যাপক পদে আবেদনের সময় জমা দেওয়া ড. রিদওয়ানুল হকের দুটি গবেষণা প্রবন্ধে প্রায় শতভাগ মিল থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আসছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার পদোন্নতি প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও পরবর্তীতে তা আর অগ্রসর হয়নি।
গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ‘সাদা দল’ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রশাসন বিজনেস অনুষদের ডিনের কাছে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ চায়। ডিন অভিযোগটিকে গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার মতামত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এর ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রশাসন আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করল।
এদিকে ড. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ, সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত এই শিক্ষক বর্তমানে বিএনপি সরকারের আমলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে লবিং করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবহার করে এ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সূত্র আরও জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ড. রিদওয়ান নীল দলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং তৎকালীন প্রশাসনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করেছেন। তিনি নীল দলের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষক প্রতিনিধিত্ব নির্বাচনেও যুক্ত ছিলেন।
অন্যদিকে, তার বিরুদ্ধে একাডেমিক অসদাচরণের অভিযোগকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অধ্যাপক পদে আবেদনের সময় জমা দেওয়া একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রায় সম্পূর্ণরূপে অন্য একটি প্রবন্ধ থেকে হুবহু নকল করা হয়েছিল। বিষয়টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হলেও তৎকালীন প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে তার পদোন্নতি আটকে রাখা যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
বর্তমানে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত কোনো ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সাদা দলের একাধিক শিক্ষক।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

