ধার করা শিক্ষক দিয়ে চলছে ইবির তিন বিভাগ

প্রজ্ঞা সর্বজয়া, ইবি

ধার করা শিক্ষক দিয়ে চলছে ইবির তিন বিভাগ

অন্য বিভাগের শিক্ষক দিয়ে চলছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফার্মেসি, চারুকলা ও কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগ। তিনটি বিভাগে বর্তমানে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অন্য বিভাগের শিক্ষকরা। অথচ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোয় যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন এ অবস্থা বহাল রয়েছে। এতে একাডেমিক কার্যক্রমে জটিলতার সঙ্গে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ সংকট ।

এদিকে, নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি না থাকায় বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, অন্য বিভাগের শিক্ষকরা বিভাগের সিলেবাস, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রয়োজন ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত নন।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে বর্তমানে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহা. মিজানুর রহমান। চারুকলা বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান এবং কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে আছেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো বিভাগে একাধিক শিক্ষক থাকলে সেখানে পদমর্যাদা ও চাকরিকালের ভিত্তিতে সিনিয়র শিক্ষককে বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে। ন্যূনতম সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদা থাকলেই এ দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা অর্জিত হয়। একই পদে একাধিক শিক্ষক থাকলে চাকরিকালের সময় এবং যোগদানের তারিখ বিবেচনায় সিনিয়র নির্ধারণের নিয়মও রয়েছে।

এদিকে, এ তিন বিভাগে একাধিক সহকারী অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও তাদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রশাসন এসব বিভাগে সভাপতির পদে পরিবর্তন আনে। সে সময় বিভাগগুলোয় সহকারী অধ্যাপক না থাকায় সাময়িকভাবে অন্য বিভাগের শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সাধারণত প্রভাষকরা পদোন্নতি পেয়ে সহকারী অধ্যাপক না হওয়া পর্যন্ত এমন ব্যবস্থা চালু থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চারুকলা বিভাগের শিক্ষক রায়হান উদ্দিন ফকির ও ইমতিয়াজ আহমেদ ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের চাকরির তিন বছর পূর্ণ হলেও পদোন্নতি হয়নি। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাদের আপগ্রেডিং বোর্ড অনুষ্ঠিত হয় এবং ৩০ জানুয়ারি সিন্ডিকেট সভায় তা অনুমোদিত হয়। একই ভাবে কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষক তন্ময় সাহা জয় ও উজ্জ্বল হোসেনের ক্ষেত্রেও পদোন্নতি বিলম্বিত হয়। ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর তিন বছর পূর্ণ হলেও প্রায় সাড়ে তিন মাস পর ২৫ জানুয়ারি তাদের আপগ্রেডিং বোর্ড অনুষ্ঠিত হয় এবং ৩০ জানুয়ারির সিন্ডিকেটে তারা সহকারী অধ্যাপক হিসেবে অনুমোদন পান। তবে পদোন্নতির পরও তাদের কাউকেই বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, ফার্মেসি বিভাগে প্রশাসনিক জটিলতায় সভাপতির পদে পরিবর্তন আটকে আছে। বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অর্ঘ্য প্রসূন সরকারের মেয়াদ শেষে অন্য শিক্ষকরা শিক্ষা ছুটিতে থাকায় অন্য বিভাগের শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সম্প্রতি শিক্ষা ছুটি শেষে সহকারী অধ্যাপক মাসুদ রানা ও মিলন কুমার ঘোষ বিভাগে যোগ দিলেও এখনো নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

বাড়তি কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে কি না—জানতে চাইলে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক এবং চারুকলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান জানান, বিভাগে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আমার বিভাগে আগে থেকেই জট ছিল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন