বর্তমানে বিশ্বের মোট ৮৩০ কোটি জনসংখ্যার ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ মুসলমান। সে হিসাবে বিভিন্ন দেশে অন্তত ২১২ কোটি মুসলিম ধর্মাবলম্বী বসবাস করছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জনসংখ্যা গবেষণা সংস্থার রিয়েল-টাইম ডেটা ট্র্যাকারের হিসাব অনুযায়ী এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিশ্বে খ্রিষ্টান ধর্মের পর ইসলাম হচ্ছে দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল। ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে মুসলিমদের মধ্যে সর্বদা হালাল পণ্যের চাহিদা সর্বাগ্রে।
টুওয়ার্ডস ফুড অ্যান্ড বেভারেজেসের মতে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক হালাল উপাদানের বাজারের আকার ৯৯ দশমিক ৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৯৬ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ক্রমবর্ধমান মুসলিম জনসংখ্যা এবং ক্লিন-লেবেল পণ্য সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতার কারণে বাজারটি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্টেট অব দ্য গ্লোবাল ইসলামিক ইকোনমির (এসজিআইই) সবশেষ অর্থনৈতিক তথ্যানুযায়ী, হালাল পণ্য (বিশেষ করে খাদ্য, মাংস ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য) উৎপাদন ও রপ্তানিতে ক্রমানুসারে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে—ব্রাজিল, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড এবং তুরস্ক।
অমুসলিম দেশগুলো বিশ্বের মোট হালাল খাদ্যের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ করে। কারণ, এসব দেশের বিশাল চারণভূমি ও স্বয়ংক্রিয় পশুপালন ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় ও বিশাল উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কসাইখানা এবং কড়া আন্তর্জাতিক হালাল সার্টিফিকেশন ও হাইজিন মানদণ্ড বজায় রাখার আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে।
বিশ্বে প্রচলিত হালাল পণ্যগুলোর মধ্যে গরু ও মুরগির মাংসের বৃহত্তম রপ্তানিকারক ব্রাজিল, যার মূল বাজার মধ্যপ্রাচ্যের জিসিসিভুক্ত দেশগুলো। এছাড়া চীন থেকে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, কৃষিপণ্য, হালাল কসমেটিকস ও লাইফস্টাইল পণ্য; ভারত থেকে মহিষের হিমায়িত মাংস, বাসমতি চাল ও প্রক্রিয়াজাত শস্যদানা; যুক্তরাষ্ট্র থেকে পোলট্রি ও গরুর মাংস, শস্য ও উচ্চমানের দুগ্ধজাত পণ্য; রাশিয়া থেকে গম, শস্যদানা ও মুরগির মাংস; ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পামঅয়েল, হালাল কসমেটিকস ও ওয়ানটাইম কনজ্যুমার পণ্য; মালয়েশিয়া থেকে পাম তেলভিত্তিক খাদ্য উপাদান, কেমিক্যাল, কসমেটিকস ও ওষুধ; অস্ট্রেলিয়া থেকে ভেড়া ও গরুর মাংস; থাইল্যান্ড থেকে সি-ফুড, হালাল প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার এবং তুরস্ক থেকে দুগ্ধজাত ও বেকারি পণ্য, কনফেকশনারি, ফ্যাশন ও লাইফস্টাইলসামগ্রী মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিমপ্রধান দেশগুলোয় রপ্তানি করা হয়। এর মধ্যে থাইল্যান্ড অমুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের ‘বিশ্বের হালাল রান্নাঘর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে।
তবে মালয়েশিয়াকে হালাল শিল্পের বৈশ্বিক রোলমডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশটিতে হালাল শিল্প নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান করা হয়েছে। জাবাতান কেমাজুয়ান ইসলাম মালয়েশিয়ার (জাকিম) হালাল সার্টিফিকেট বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও প্রভাবশালী মানদণ্ড।
এদিকে, ইন্দোনেশিয়াও ৩ দশমিক ৫৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক হালাল বাজারে প্রধান ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি জাকার্তায় হালাল ইন্দো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভোক্তা প্রদর্শনীর উদ্বোধনের পর স্থানীয় গণমাধ্যমে দেশটির শিল্প উপমন্ত্রী ফয়সোল রিজা বলেন, ইন্দোনেশিয়ার ক্রমবর্ধমান শিল্প ভিত্তি এবং বিশাল অভ্যন্তরীণ মুসলিম ভোক্তা বাজারের কারণে বৈশ্বিক হালাল বাজারের সুযোগগুলো কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে দেশটির একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


