জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত ও ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান পরিষদের ভিপি (সহসভাপতি) পদপ্রার্থী এ কে এম রাকিব বলেছেন, ‘প্রথমবার অনুষ্ঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদের নির্বাচনে যেই জয়লাভ করুক, একসাথে কাজ করব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকে বলে এসেছি, জকসু নির্বাচন কোনো ব্যক্তি ক্যারিয়ার নয়। আজকের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে প্যানেলের যে প্রার্থী জিতবে। জিতে যাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।’
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে জকসু নির্বাচনে ভোটদান-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ২১২ কক্ষে ভোট দেন তিনি।
রাকিব বলেন, ‘আশা-আকাঙ্ক্ষার এই নির্বাচন। দীর্ঘদিন ধরেই আমরা লড়াই করেছি শুধু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার জন্য। আশা করছি এখন পর্যন্ত যে পরিবেশ আছে, তা অব্যাহত থাকবে। বিগত দিনগুলোতে সারা দেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা এক অনন্যরূপে তুলে ধরতে পেরেছি।আজকের এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও তা ভিন্নভাবে তুলে ধরতে পারব।
সুষ্ঠু ভোট নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো শঙ্কা দেখছি না। শিক্ষার্থীরা যাতে আসতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সেভাবে পরিবহনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা শেষ পর্যন্ত এলে আমরা একটা অনন্য নির্বাচন দেখতে পাব।’
ভিপি পদপ্রার্থী বলেন, ‘আমরা যখন প্রচারণায় গিয়েছি, শিক্ষার্থীরা ভালো সাড়া দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার হৃদ্যতার সম্পর্ক। সকাল থেকে ভোটাররা আসছেন। ৩০ তারিখে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি না হওয়ায় একধরনের হতাশা ছিল। তবু শিক্ষার্থীদের আমরা ভোট দিতে আসার আহ্বান জানিয়েছি, যাতে তারা এই ইতিহাসের সাক্ষী হতে পারেন।’
ভোট গণনা পদ্ধতি নিয়ে বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা একটা ত্রুটির বিষয়ে বলেছি। পোলিং এজেন্টদের বলেছি, যেটিতে ত্রুটি মনে হবে, সেটি হাতে গণনা করতে হবে। আমাদের একটাই লক্ষ্য, স্বচ্ছ নির্বাচন।’
প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পর হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন। মঙ্গলবার সকাল ৯টার পর বহুল প্রতিক্ষিত নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। প্রথমবার শিক্ষার্থী সংসদ প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৪৪৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৮ হাজার ৪৭৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ১৭০ জন। কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট প্রার্থী রয়েছেন ১৯০ জন।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণের জন্য মোট ৩৯টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বসানো হয়েছে ১৭৮টি বুথ। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি কেন্দ্র এবং একটি হল সংসদের জন্য আলাদা কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ কেন্দ্রে প্রস্তুত রয়েছেন। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন করা হয়েছে।
এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


‘জীবনে কখনো ভোট দিতে পারিনি, এবারই প্রথম দেব’