হল সংসদের উদ্যোগে

ঢাবির জহুরুল হক হলে নিরাপত্তায় বসছে ৩২ সিসিটিভি ক্যামেরা

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

ঢাবির জহুরুল হক হলে নিরাপত্তায় বসছে ৩২ সিসিটিভি ক্যামেরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদারে ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা, দুটি মনিটর ও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে হল সংসদ। ইতোমধ্যে এসব সরঞ্জাম হল প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। খুব শিগগিরই হলের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে আরও ১৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন হল সংসদের নেতারা।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে হল সংসদের ভিপি মো. আহসান হাবিব ইমরোজের সার্বিক সহায়তায় কেনা সিসিটিভি ক্যামেরা, দুটি মনিটর ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে হল সংসদের ভিপি মো. আহসান হাবিব ইমরোজ বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরেই হল প্রাঙ্গণকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি ছিল। তবে হলের গঠনগত সীমাবদ্ধতার কারণে এতদিন তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরে হলের সাবেক শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা, দুটি মনিটর ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনা সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, খুব দ্রুত হলের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে অতিরিক্ত ১৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা সংযোজন করা হবে।

হলের উন্নয়নে সাবেক শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করে ইমরোজ বলেন, শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে হল সংসদ কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় তিনি হলের মূল ভবনের পাঠাগারকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থার আওতায় আনারও দাবি জানান।

হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিন সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ বিষয়ে হল প্রশাসনের কাছেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। অর্থের সীমাবদ্ধতা থাকলেও প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করবে।

তিনি বলেন, হলের বিভিন্ন আয়ের উৎস রয়েছে এবং সেগুলো আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আয় বৃদ্ধি করা গেলে হলের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও সহজ হবে।

ক্যান্টিনের খাবারের মান নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রাধ্যক্ষ বলেন, অনিয়মের অভিযোগে আগের দিনই ক্যান্টিন পরিচালনাকারীকে জরিমানা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছেন এবং দায়িত্বের অবশিষ্ট সময়েও বাকি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে গেস্টরুম ও গণরুমের নামে কোনো সহিংসতা নেই। এই পরিবর্তনের পেছনে হল সংসদের পাশাপাশি হল প্রশাসনেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাসের মতো আচরণের সেই পুরনো সংস্কৃতি আর ফিরতে দেওয়া হবে না।

সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগের প্রশংসা করে ডাকসুর ভিপি বলেন, হল সংসদের ভিপি মো. আহসান হাবিব ইমরোজের উদ্যোগেই এই ক্যামেরাগুলো কেনা সম্ভব হয়েছে। এজন্য তিনি ডাকসুর পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়া চলতি মাসের মধ্যেই জহুরুল হক হলের মূল ভবনের লাইব্রেরিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা চালুর আশাবাদও ব্যক্ত করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...