আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ইবি শিক্ষিকা রুনার জানাজা সম্পন্ন

প্রতিনিধি, ইবি

ইবি শিক্ষিকা রুনার জানাজা সম্পন্ন

নিজ বিভাগের কক্ষে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিহত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার বাদ জোহর কুষ্টিয়া শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষিকার স্বামী, বাবা, আত্মীয় স্বজন ছাড়াও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এছাড়াও ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম,সহকারী প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক - ছাত্রসংগঠনের নেতা ও শিক্ষার্থীরা।

এসময় আসমা সাদিয়া রুনার বাবা বলেন, আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন। উনার যদি কারো কাছে দায়বদ্ধতা থাকে তবে ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত দান করেন। আসলে খুনি যারা, যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের যেনো বিচার হয়, শাস্তি হয়। এমন কিছু যেনো করো সাথে না ঘটে সেই দোয়া করি।

শিক্ষিকা রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ইফতারের অনুষ্ঠানের দিনে কেউ একটা মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করতে পারে তা আমার জানা ছিলোনা, নিজের জীবন দিয়ে তা দেখতে হলো। ১৩ সেপ্টেম্বর আমার চতুর্থসন্তান জন্ম নেয়ার পর আমি তাকে নিয়ে সনো হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। ১৯ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। একটা দিনের জন্যও তিনি তার দায়িত্ব থেকে অনুপস্থিত হননি। আমি প্রশাসনের কাছে, উপস্থিত সকলের কাছে আবেদন করছি তার কোনো ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমা করে দিবেন। এই নৃশংস হত্যাকান্ডের পিছনে হত্যাকারী একা জড়িত নয়, সবাইকেই শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব নসরুল্লাহ বলেন, রুনা অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন। গতকাল আমি ঘটনাস্থলে যেয়ে আমি স্তম্ভিত হয়ে গেছি। এরকম কোনো মর্মান্তিক ঘটনা আমার জীবনে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, সকল শিক্ষক-ছাত্র সমাজ আজ শোকাভিভূত। আমরা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের কাছে হত্যাকারীর উপযুক্ত শাস্তি দাবি করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারে রুনার পরিবারের যত প্রাপ্য আছে, সকল কিছু আমরা নিশ্চিত করবো। রুনার পরিবারে চারটি সন্তান আছে, এ পরিবারের পাশে থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করবে ইনশাআল্লাহ।

কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা বলেন, তিনি যদিও আমার সরাসরি শিক্ষক না কিন্তু আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে আমি সবাইকে আমার শিক্ষক মনে করি। সরকারের কাছে আহ্বান জানাবো এই বিচারহীনতা থামাতে হবে নইলে আজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে কাল কুষ্টিয়ার কলেজে ঘটবে। যেহেতু ইসলামের নিয়মনীতি শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পারছি না, রাষ্ট্রের আইন যেন শতভাগ কার্যকর করা হয়। যে যেই পরিমাণ অপরাধী তাকে ওই পরিমাণ শাস্তির আওতায় এনে দ্রুত বিচার কার্যকর করতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন