আবাসন সংকট নিরসন, ক্যান্টিন ও ডাইনিংয়ে পর্যাপ্ত ভর্তুকি, স্যানিটেশন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থাপনাসহ পাঁচ দফা দাবিতে ছাত্র সমাবেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ঢাকা কলেজ শাখা।
রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় কলেজের বকুলতলায় সমাবেশ করেন তারা। সংগঠনটির কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির কলেজ শাখার সভাপতি নাহিয়ান রেহমান রাহাত, দপ্তর সম্পাদক আবু বকরসহ সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
সমাবেশে মশিউর রহমান বলেন, আমরা ঢাকা কলেজের বিদ্যমান সংকট নিরসন ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানাচ্ছি। আমাদের কলেজের শিক্ষার মান উন্নত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমাদের শিক্ষার মান হ্রাস পাচ্ছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী কোনো সরকারই শিক্ষাকে মূল্য দেয়নি। টাকার অঙ্কে এবারের বাজেট বাড়লেও ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির বাজেট মাত্র ২৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যা সাতটি ক্যাম্পাসের জন্য যথেষ্ট নয়।
সংকট নিরসনে প্রশাসন কোনো ভূমিকা রাখছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের কলেজে পর্যাপ্ত আবাসন নেই। এখনো ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থীরা বৈধ সিট পায়নি। যারা হলে থাকছে, তাদের সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া প্রশাসনের ভর্তুকির অভাবে মানসম্মত খাবার পাওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য যে পরিবহন রয়েছে, তাও যথেষ্ট নয়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে কলেজের এসব সংকট নিরসনের দাবি প্রশাসনকে জানিয়ে আসছি। এখানকার শিক্ষার্থীরা কথা বলে আসছে। কিন্তু প্রশাসন নির্বিকারভাবে তাকিয়ে আছে। তারা কোনো ভূমিকা রাখছে না।
দপ্তর সম্পাদক আবু বকর বলেন, "ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষ থেকেই নানা সংকটের মধ্য দিয়ে শিক্ষাজীবন পার করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পরিবহন সংকট। ঢাকা শহরের বিভিন্ন রুটে পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্যাম্পাসে আসতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো ক্লাসে উপস্থিত হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগ কোনো স্বাভাবিক বিষয় নয়; এটি শিক্ষার প্রতি রাষ্ট্রের অবহেলার ফল। অবিলম্বে পর্যাপ্ত পরিবহন নিশ্চিত করতে হবে।"
সভাপতি নাহিয়ান রেহমান রাহাত বলেন, "ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্যে শিক্ষা গ্রহণ করছে। প্রথম বর্ষ থেকেই বৈধ সিটের অনিশ্চয়তা, আবাসন সংকট, পরিবহন সংকট, ক্যান্টিন ও ডাইনিংয়ে উচ্চমূল্যের খাবার, চিকিৎসা সংকট এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের অভাব শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের বাস্তবতা। অথচ শিক্ষার্থীদের এই সংকট নিরসনে প্রশাসন ও রাষ্ট্রের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই।"
তিনি আরও বলেন, "শিক্ষাকে মানুষের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং শিক্ষাবিরোধী নীতি পরিহার করতে হবে। ঢাকা কলেজের সংকট কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; এটি শিক্ষাকে অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার বদলে পণ্য ও মুনাফার উপকরণে পরিণত করার রাষ্ট্রীয় নীতিরই বহিঃপ্রকাশ। তাই অবিলম্বে প্রথম বর্ষ থেকে সব শিক্ষার্থীর বৈধ সিট নিশ্চিত, নতুন হল নির্মাণ ও পুরোনো হল সংস্কারের মাধ্যমে আবাসন সংকট নিরসন, ডাইনিং ও ক্যাফেটেরিয়ায় ভর্তুকি দিয়ে খাবারের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত বাস ও রুট বৃদ্ধি, সার্বক্ষণিক এমবিবিএস চিকিৎসকসহ কার্যকর চিকিৎসাসেবা এবং মানসম্মত স্যানিটেশন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে।"
সমাবেশে সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঁচটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—শিক্ষার্থীদের বৈধ সিট নিশ্চিত করে আবাসন সংকট নিরসনে বহুতলবিশিষ্ট হল নির্মাণ, ডাইনিং ও ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের দাম কমানো ও মান উন্নয়ন, পরিবহন সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ ও রুট বৃদ্ধি, মেডিকেল সেন্টারে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক নিয়োগ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং সব বিভাগে মানসম্মত স্যানিটেশন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

