ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে হেরে যাওয়া একাধিক প্যানেলের ভিপি ও জিএস প্রার্থীরা দফায় দফায় অভিযোগ জানিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে (২৩ সেপ্টেম্বর) উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান, জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম, এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ, স্বতন্ত্র প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ওমামা ফাতেমা, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের, বামপন্থী জোট অপরাজেয় একাত্তর অদম্য চব্বিশ-এর ভিপি প্রার্থী নাঈম হোসেন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ সমর্থিত জিএস প্রার্থী আরাফাত চৌধুরীসহ বামপন্থী প্যানেলের অনেকে।
অভিযোগ উত্থাপন করে আবিদুল ইসলাম খান বলেন, গাউসুল আজম সুপার মার্কেটের নিচতলায় যে বিপুল সংখ্যক ব্যালট পাওয়া গেছে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন নির্বিকার। এই ব্যালট কারা ছাপিয়েছে, কোন ছাপাখানায় তৈরি হয়েছে—তা তদন্ত করে প্রকাশ করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।” তিনি আরো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অভিযোগের সঠিক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচন পুনর্বিবেচনার দাবিতে আন্দোলন চলবে।
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের প্রার্থী আবদুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন একে অপরের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এই অস্পষ্টতা দূর করা জরুরি।
নারী প্রার্থী ওমামা ফাতেমা অভিযোগ করে বলেন, ব্যালট পেপারের বিষয়ে এখনও প্রশাসনের উত্তর নেই। জহুরুল হক ও এসএম হলে ভোটার উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন আছে, অথচ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
প্রার্থীদের উত্থাপিত প্রধান অভিযোগগুলো:
ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ : অনেক ভোটারের নামে আগেই স্বাক্ষর দেওয়া হয়েছিল এবং নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে চিহ্নিত ব্যালট সরবরাহ করা হয়। ভোটার উপস্থিতি ও ভোটদানের হারেও বড় অসামঞ্জস্য ছিল।
ব্যালটে অনিয়মের অভিযোগ: ব্যালটে কোনো ক্রমিক নম্বর ছিল না, কতগুলো ছাপানো ও ব্যবহার হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি।
ব্যালট ছাপানো নিয়ে অভিযোগ : নির্বাচনের আগের দিন নীলক্ষেতের গাউসুল আজম মার্কেটে অরক্ষিত অবস্থায় বিপুল ব্যালট পাওয়া যায়।
ভোট গণনা নিয়ে অস্পষ্টতার অভিযোগ: গণনার সফটওয়্যার নিয়ে প্রার্থীদের আস্থা নেই, পোলিং এজেন্টদেরও যথাযথভাবে যুক্ত করা হয়নি।
পোলিং এজেন্টে বাধা দেয়ার অভিযোগ: অনেক এজেন্টকে আইডি না দেওয়ায় কেন্দ্রে ঢুকতে পারেননি। আগের রাতে তালিকা বদলে দেওয়া হয়েছিল।
কেন্দ্র সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি: ঘোষণায় ৮টি কেন্দ্র বলা হলেও ভোটের দিন দেখা যায় ১৮টি কেন্দ্রে ভোট চলছে।
পোলিং অফিসার নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ: নির্বাচন কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়েছে বলে অভিযোগ।
নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ: বিএনসিসি, রোভার ও গার্লস গাইড সদস্যদের সহায়তায় বহিরাগতদের প্রবেশের অভিযোগ আছে।
ব্যালট বাক্স নিয়ে অভিযোগ : ভোটে স্বচ্ছ বাক্স না থাকায় বিতর্ক হয়েছে, আবার অনেক কেন্দ্রে মার্কার না থাকায় বলপেন ব্যবহার করতে হয়েছে।
কালির মান নিয়ে অভিযোগ: ভোটার চিহ্নিত করার কালি দ্রুত মুছে যাওয়ায় একাধিকবার ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল।
প্রার্থীদের অভিযোগ, এসব অনিয়মের কারণে ডাকসু নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপ না এলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

