জাবি ছাত্রদল নেতার ওপর ছাত্রলীগ কর্মীর হামলা, পুলিশে সোপর্দ

জাবি প্রতিনিধি

জাবি ছাত্রদল নেতার ওপর ছাত্রলীগ কর্মীর হামলা, পুলিশে সোপর্দ

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক এক কর্মীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল গাফফার জিসানের উপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেইট (ডেইরি গেইট) সংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত হামলাকারী হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ৪৬ ব্যাচের আলা নুরজান ওরফে ঋজু। তিনি মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আব্দুল গাফফারের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা শুনে জাবি ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নানান স্লোগান দেন।

হামলার শিকার আব্দুল গাফফার জিসান বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী। হামলার বর্ণনা করে তিনি বলেন, "কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে আসছে এমন খবর দিলে, আমরা কয়েকজন ডেইরি গেইটে গিয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী নুরজানের পরিচয় জানতে চাইলে, তিনি পরিচয় না দিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করেন। পরবর্তীতে তার বন্ধু তানভীর তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও তিনি আমার ওপর হামলে পড়েন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেইটের সিকিউরিটি গার্ডের সদস্যরা তাকে গার্ড রুমে প্রবেশ করালে সেখানেও তিনি তাদের ডিঙিয়ে আমাকে এলোপাথাড়ি লাথি, কিল ও ঘুসি মারতে থাকে, এতে আমি মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হই।"

অভিযুক্ত আলা নুরজান ওরফে ঋজু বলেন, "আমি গত কয়েকদিন ধরে হলে আসছি। আমি আমার বন্ধু তানভীর ডেইরি গেইটে আসলে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদের পরিচয় জানতে চায় এবং ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বলে। এই নিয়ে কথার কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। আমাকে অনেক আঘাত করে, এতে আমার প্যান্ট ছিঁড়ে যায় এবং হাতের একটি আঙ্গুলের নখ উঠে যায়। ২০১৮ সালের সড়ক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করায় ছাত্রলীগের সাথে আমার মনোমালিন্য হয় পরবর্তীতে আমি হলের পলিটিক্যাল ব্লক ছেড়ে দেই। তখন থেকে ছাত্রলীগের সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ঢাকায় অংশগ্রহণ করেছি। আমাকে অন্যায়ভাবে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে ফাঁসানো হচ্ছে।"

আব্দুল গাফফারকে আঘাত করার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ঋজু বলেন "হ্যাঁ, আমার ওপর হামলা করলে আমি তাকে আঘাত করি।"

আলা নুরজান ওরফে ঋজুর সহপাঠী মাইনুল হোসেন বলেন, "আলা নুরজান গত ছয় মাস ধরে হলে থাকেন না। ওর স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে এবং মানসিক সমস্যা রয়েছে। এতে মাঝেমাঝে অস্বাভাবিক আচরণ করেন।”

এছাড়া ডেইরি গেইটের সিকিউরিটি গার্ড সদস্যগণ ছাত্রদলের নেতা আব্দুল গাফফারের উপর হামলার কথা স্বীকার করেন এবং তাদের একজন আহত হয়েছেন বলেও জানান।

জাবি প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলম বলেন, "হামলার খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই এবং জানতে পারি ওই শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। আব্দুল গাফফারের উপর অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার জন্য তাকে আশুলিয়া থানা পুলিশে কাছে সোপর্দ করি।"

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন