আজ ১৫ অক্টোবর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস। ১৯৮৫ সালের এই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের টেলিভিশন কক্ষের ছাদ ধসে শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও অতিথিসহ ৪০ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছিল। সেই হৃদয়বিদারক ও ট্র্যাজিক ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতিবছর দিনটিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯টা। জগন্নাথ হলের পুরোনো অ্যাসেম্বলি ভবনে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের নাটক দেখছিলেন। দিনভর ভারী বৃষ্টির পর হঠাৎ ভবনটির ছাদ ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দমুখর পরিবেশ পরিণত হয় মৃত্যু, আর্তনাদ ও হাহাকারে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও অতিথিরা। প্রাণ হারান ৪০ জন। আরো কয়েক শ মানুষ আহত হন বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময় দুর্ঘটনাকবলিত ভবনটি ভেঙে নতুন করে ‘অক্টোবর স্মৃতি ভবন’ নির্মাণ করা হয়। ভবনের সামনে একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয় এবং সেখানে একটি ছোট জাদুঘর রয়েছে, যেখানে সেদিনের স্মৃতিচিহ্ন, ছবি ও দুর্ঘটনার স্মারক সংরক্ষিত রয়েছে।
সেই রাত কেবল একটি ভবন ধসের ঘটনা ছিল না; এটি ছিল বহু পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার রাত। যেসব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা শেষ করে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখছিলেন, তাঁদের অনেকের জীবন থেমে যায় অকালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রজন্মের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য স্বপ্ন, সংগ্রাম ও স্মৃতি।
১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবরের দুর্ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়ায়। নিহত শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও অতিথিদের স্মরণে দিনটিকে প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়; এটি মানুষের জীবন, স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


