র্যাবের স্থাপনা, জনবল ও লজিস্টিকস বহাল রেখে শুধু নাম পরিবর্তন করে নতুন বাহিনী গঠনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, র্যাবের অতীত ভূমিকার কারণে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তাই শুধু নাম পরিবর্তন নয়, পুরো বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করে বিলটি প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।
জাতীয় সংসদে র্যাবের পরিবর্তে নতুন বাহিনী গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিলটি জাতীয় জীবনের অন্যান্য সাধারণ বিলের মতো নয়। র্যাব প্রতিষ্ঠার পর এর সামগ্রিক অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। বাহিনীটির নেতিবাচক ভূমিকার কারণে একসময় গোটা বিশ্বও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল।
র্যাবের নির্যাতনে ভুক্তভোগীদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সংসদে উপস্থিত মীর আহমাদ বিন কাসেম নিজেও এ বাহিনীর নির্মমতার শিকার। একইভাবে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারজিয়া বেগমের স্বামী, একজন সুপরিচিত মানবিক চিকিৎসক, র্যাবের নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু বাহিনীটি বিলুপ্ত না করে একই স্থাপনা, লজিস্টিকস ও জনবল বহাল রেখে শুধু নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন বাহিনী গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন আইন ও প্রস্তাবনা নিয়ে সিভিল সোসাইটি, দেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।
তিনি জানান, বিলটি নিয়ে স্থায়ী কমিটিতে দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। চলতি অধিবেশনে বিলটি পাস না করার জন্য সংসদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মৌলিক কোনো পরিবর্তন না এনে এমন একটি আইন করা উচিত নয়, যেখানে ‘আমার অপরাধ আমিই তদন্ত করব’—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বিলটি প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে গভীরভাবে আলোচনা করে বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানান তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


