আলী রীয়াজ স্নাতকোত্তর গবেষণা বৃত্তি পেলেন ঢাবির ৭ শিক্ষার্থী

আলী রীয়াজ স্নাতকোত্তর গবেষণা বৃত্তি পেলেন ঢাবির ৭ শিক্ষার্থী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সে অধ্যয়নরত বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের সাত শিক্ষার্থীকে ‘আলী রীয়াজ স্নাতকোত্তর গবেষণা পুরস্কার ও বৃত্তি’ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন গবেষণা পুরস্কার এবং ছয়জন গবেষণা বৃত্তি পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও বৃত্তির চেক তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর ড. আলী রীয়াজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।

অনুষ্ঠানে আলী রীয়াজ তরুণ শিক্ষার্থীদের মুক্তচিন্তা, যুক্তিনির্ভর গবেষণা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।

আলী রীয়াজ বলেন, তরুণদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো প্রশ্ন করার ক্ষমতা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর অনেক সময় মানুষ প্রশ্ন করার অভ্যাস হারিয়ে ফেলে। কিন্তু একজন শিক্ষার্থী ও গবেষককে সবকিছু নিয়ে ‘কেন’ প্রশ্ন করতে হবে। সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী হিসেবে এই প্রশ্ন করার দায়িত্ব আরো গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে সাহস প্রয়োজন। তবে সেই সাহস যেন ঔদ্ধত্যে পরিণত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যুক্তি দিয়ে ভিন্নমত মোকাবিলা করতে হবে এবং ভিন্নমতকে শত্রু হিসেবে দেখা যাবে না। অন্যের মতের যৌক্তিকতা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও যুক্তিনির্ভর চিন্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আলী রীয়াজ বলেন, বর্তমান বিশ্ব অস্থির ও পরিবর্তনশীল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা বৈশ্বিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বের এক প্রান্তের ঘটনা এখন অন্য প্রান্তের মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলছে। ফলে তরুণদের বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতন গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রথম ধাপ মাত্র। গণতান্ত্রিক উত্তরণ শুধু একটি নির্বাচন নয়; নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং বৈষম্যহীন সমাজ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তরুণদের এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে রাজপথে নেমে দীর্ঘদিনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে যে সাহস দেখিয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কাজ এখনো শেষ হয়নি। বাংলাদেশের তরুণদের সামনে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বড় দায়িত্ব রয়েছে।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারও তরুণদের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করবে বলে মন্তব্য করেন আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, প্রযুক্তি যেন মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা না করে, বরং মানুষকেই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার, অ্যালগরিদম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব সম্পর্কে তরুণদের সচেতন হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, পরিবর্তন কখনো নিষ্ক্রিয়তার মাধ্যমে আসে না। নিজেদের স্বার্থ, জনগণের স্বার্থ এবং দেশের স্বার্থে তরুণদের সক্রিয় থাকতে হবে। জ্ঞানচর্চা, মুক্তচিন্তা, যুক্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সক্রিয়তার মাধ্যমে তারা একটি জবাবদিহিমূলক ও নাগরিক অধিকারভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বৃত্তি ও পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সফলতার পেছনে পরিবার, বাবা-মা এবং সমাজের অনেক মানুষের অবদান থাকে। শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠে এসব অবদানের প্রতিদান দিতে হবে। সুখী, সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও দেশ গঠনে তাদের ভূমিকা রাখতে হবে।

উপাচার্য বলেন, শুধু সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং অ্যালামনাইদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে বিশ্বমানে উন্নীত করা সম্ভব।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে অ্যালামনাইদের সম্পৃক্ত করে বড় আকারের ‘এনডাউমেন্ট ফান্ড’ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়ন ও সার্বিক কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আলী রীয়াজ স্নাতকোত্তর গবেষণা পুরস্কার পেয়েছেন অর্থী নবনীতা ও ফারাহ জাহান শুচি। গবেষণা বৃত্তি পেয়েছেন ফারাহ জাহান শুচি, উসামা রাফিদ, আজরা হুমায়রা, কৌরিত্র পোদ্দার তীর্থ, মোহাম্মদ আল মুকিত এবং মুহাম্মদ মুযযাম্মিল হক।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...