অভিযোগ চ্যালেঞ্জ

দুদক মুখপাত্র বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা: আসিফ মাহমুদ

দুদক মুখপাত্র বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা: আসিফ মাহমুদ

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আনা অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার’ বিষয়ে দুদক মুখপাত্রের দেওয়া বক্তব্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।

বিজ্ঞাপন

গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, দুদকের মুখপাত্র প্রথমে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। গণমাধ্যমে তার বক্তব্যের বরাত দিয়ে সংবাদ হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন বলে জানালেও তা সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা হয়নি। এতে আমার সম্মানহানি হয়েছে। এই বক্তব্য যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুদকের মুখপাত্র উইথড্র না করেন এবং যেসব সংবাদ হয়েছে, তা দুদক দায়িত্ব নিয়ে উইথড্র না করলে আমি দুদকের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এনসিপি মুখপাত্র বলেন, যতটা আয়োজন করে তার মানহানি করা হয়েছে, ততটা আয়োজন করেই তাদের এই বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে মানহানির যেসব ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেসব অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দুদককে এ ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দুদকের অভিযোগের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, দুদকের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ আসতে পারে, তবে সব অভিযোগের তদন্ত হয় না। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা বা শক্ত কোনো ভিত্তি পাওয়া গেলে তদন্ত শুরু করা হয়।

আসিফ মাহমুদ বলেন, আমি অবশ্যই দুদকের অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করছি। দুইটা অভিযোগের মধ্যে একটা হচ্ছে কোর্টের অর্ডার আমি বাস্তবায়ন করেছি। তাহলে শুধু কোর্টের অর্ডার বাস্তবায়নের বিষয়ে তদন্ত হবে? আরেকটা হচ্ছে পিএসসি। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। পিএসসির তালিকা অনুযায়ী যে পদ্ধতিতে দেওয়া হয়েছে, সেটাই করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, দুটি বিষয়ই সচিব পর্যায়ে নিষ্পত্তিযোগ্য ছিল এবং বিষয়গুলো তার কাছে আসেনি। সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব তার ওপর না থাকলেও তাকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত করে মানহানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ আসিফ মাহমুদের।

এনসিপির এই নেতা বলেন, এটার জন্য আমাকে যে মানহানি করা হলো, সেটা তো আমি অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ করছি। আমি মনে করছি, প্রক্রিয়াটিকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে এবং দুদককে আবারো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে বিরোধী দল ও মতকে দমন করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

‘বিরোধী দল দমন কমিশন’ করার অপচেষ্টা, সরকারে থাকা দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এনসিপির

এর আগে গতকাল রাতে এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের এক যৌথ বিবৃতিতে দুদককে কমিশনারবিহীন ও কার্যত অকার্যকর রেখে দেওয়ার পর সম্প্রতি যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ, দলীয় স্বার্থপ্রসূত এবং অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে এর তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, দুদককে ‘বিরোধী দল দমন কমিশন’-এ পরিণত করার অপচেষ্টা বন্ধ করে সরকারের ভেতরে থাকা দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতানুযায়ী, আপিল বিভাগের একজন সাবেক বিচারপতিকে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সংবিধানের ৯৯ অনুচ্ছেদের প্রত্যক্ষ লঙ্ঘন। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা দুদক অধ্যাদেশ বাতিল করে দুদককে আবারও ফ্যাসিবাদী আমলের মতো সরকারি দলের আজ্ঞাবহ কমিশনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে; যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও জুলাই সনদে বর্ণিত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতিকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পুনরায় একপেশে ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সম্পন্ন করা একটি পদক্ষেপ।

এনসিপি বলেছে, গত সাত মাসে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি কাজ হাসিল এবং জনগণের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অথচ এসব নগ্ন দুর্নীতি ও স্বার্থের সংঘাতের খবরের বিরুদ্ধে দুদক সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে। দুর্নীতির প্রতি কমিশনের এই অন্ধত্ব প্রমাণ করে যে এটি শুরুতেই অসাংবিধানিকতার প্রশ্ন ও স্বচ্ছতাহীনতার কালিমা নিয়ে গঠিত হয়েছে। ফলে এই বিতর্কিত কমিশনের কোনো ধরনের নৈতিক ও আইনি বৈধতা থাকতে পারে না। যখনই বিরোধী দলগুলো জনগণের মৌলিক অধিকার আদায় ও গণরায় অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে রাজপথে নামছে, ঠিক তখনই নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমাতে দুদককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার পুরোনো অপকৌশল শুরু হয়েছে। এটি মূলত পরাজিত ফ্যাসিবাদের আমলের সেই পুরোনো ও নিপীড়নমূলক কায়দারই এক বিপজ্জনক পুনরাবৃত্তি মাত্র।

দলটির দাবি, অসাংবিধানিক ও বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় গঠিত এই নিয়োগ অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে। জুলাই সনদে উল্লিখিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করতে হবে। দুদকের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক ইনস্টিটিউশনকে আবারও সরকারি দলের অবৈধ কর্মকাণ্ড এবং ক্ষমতার রক্ষাকবচ বানানোর চক্রান্ত জনগণ মেনে নেবে না। অনতিবিলম্বে এই অসাংবিধানিক নিয়োগ বাতিল করে স্বাধীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে দেশের আপামর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে তীব্র প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...