ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আজমিরীগঞ্জে ফ্লোর ধসে আহত ৫ শিশু শিক্ষার্থী

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আজমিরীগঞ্জে ফ্লোর ধসে আহত ৫ শিশু শিক্ষার্থী

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের ফ্লোর ধসে চার ফুট নিচে পড়ে শিক্ষক রুমা আক্তারসহ পাঁচ শিশু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর ১টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠদান চলাকালে হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের মেঝের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

দুর্ঘটনার পর পরই বিদ্যালয় ভবনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও নির্মাণকাজের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি—শুধুমাত্র এই শ্রেণিকক্ষই নয়, ভবনের প্রায় সবকটি কক্ষের ফ্লোরই চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মেঝের নিচে পর্যাপ্ত মাটি না দিয়ে ফাঁকা রেখে নির্মাণকাজ করায় এ ধরণের বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান শিক্ষকরা।

শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, দুপুরে চতুর্থ শ্রেণির পাঠদান চলছিল। ক্লাস চলাকালে এক শিক্ষার্থী মেঝের টাইলসে হঠাৎ ফাটল দেখা দেওয়ার বিষয়টি দায়িত্বরত শিক্ষককে জানায়। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের মধ্যে ফ্লোরের একটি অংশ প্রায় চার ফুট নিচে ধসে পড়ে। এ সময় সেখানে উপস্থিত কয়েক শিশু শিক্ষার্থী সরাসরি ধসে যাওয়া গর্তে পড়ে আহত হয়। শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে গিয়ে শিক্ষক রুমা আক্তারও নিচে পড়ে গিয়ে আঘাত পান।

পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্য শিক্ষকদের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে—রাহিম বাদশা, আব্দুল মান্নান মিয়া, মোজাক্কির মিয়া ও আজিনুর মিয়া। এ ছাড়া এ ঘটনায় আরও এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সবুতর নেসা বলেন, চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ফ্লোরটি চার ফুট নিচে ধসে যায়। ফ্লোরের নিচে প্রয়োজনীয় মাটি না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমার বিদ্যালয়ের প্রায় সবকটি কক্ষের একই অবস্থা, পুরো ভবনটিই এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ধসে পড়ার পর অভিভাবকেরা আতঙ্কিত হয়ে সন্তানদের বাড়ি নিয়ে গেছেন। আগামীকাল থেকে শিক্ষার্থীরা আদৌ বিদ্যালয়ে আসবে কি না, তা নিয়ে আমরা সংশয়ে আছি।

আহত শিক্ষক রুমা আক্তার বলেন, এক শিক্ষার্থী মেঝের ফাটল দেখা যাওয়ার কথা বলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফ্লোর ধসে পড়ে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমিও নিচে পড়ে আঘাত পেয়েছি। ঘটনাটি খুবই আতঙ্কজনক ছিল।

মেঝে ধসে পড়ার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। বহু অভিভাবক দ্রুত বিদ্যালয়ে এসে নিজ সন্তানদের নিরাপদে বাড়ি নিয়ে যান। ভবনটির স্থাপত্য নিরাপত্তা পুরোপুরি যাচাই না করে পুনরায় পাঠদান শুরু করা হলে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অভিভাবকেরা।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে শিক্ষা কর্মকর্তা এবং এলজিইডির একজন প্রকৌশলীকে সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তাঁদের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন