স্পেনের শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিমাগো ইন্সটিটিউশনের র্যাঙ্কিং অনুযায়ী গবেষণায় দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে রেখে প্রথম স্থান অর্জন করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর (বেরোবি)। সিমাগো ইন্সটিটিউশন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১০ হাজার ৮২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে করা ২০২৬ সালে এই র্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে।
দেশভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়ের তথ্যমতে বাংলাদেশের সেরা এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় গবেষণার ক্ষেত্রে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছয় ধাপ এগিয়ে ঢাবি, রাবি, জাবি, চবিসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান দখল করেছে। গত ২০২৫ সালের র্যাঙ্কিং অনুযায়ী বেরোবির সপ্তম এবং ২০২৪ সালে ষষ্ঠ অবস্থানে ছিল।
সিমাগোর ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, গবেষণা, সামাজিক প্রভাব এবং উদ্ভাবন— এই তিন সূচকের ফলাফল পর্যালোচনা করে র্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এই তিন সূচকের ফলাফল অনুযায়ী আলাদা র্যাঙ্কিং এবং একসঙ্গে মিলিয়ে সার্বিক র্যাঙ্কিং (overall ranking) প্রকাশ করে থাকে। সার্বিক র্যাঙ্কিং করার জন্য তারা গবেষণায় ৫০ শতাংশ, উদ্ভাবনে ৩০ শতাংশ এবং সামাজিক প্রভাবে ২০ শতাংশ ওয়েট দিয়ে থাকে।
র্যাঙ্কিংয়ের তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, এতে বাংলাদেশের মোট ৪৭টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। তিন ক্যাটাগরিতে সার্বিক অবস্থানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে ষষ্ঠ অবস্থানে হলেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাটাগরিতে গবেষণায় প্রথম স্থান দখল করেছে বেরোবি, চতুর্থ অবস্থানে ঢাবি, ১১তম অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
এ বিষয়ে টপ টু পারসন সাইন্টিস্টের স্থান অর্জনকারী শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘গবেষণা হলো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই দিকটাকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে কীভাবে একটা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় করা যায়, সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সময়ে বেরোবির শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি গবেষণামুখী।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. ইলিয়াছ প্রামাণিক বলেন, ‘এটা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অবশ্যই বড় একটি প্রাপ্তির বিষয়। এর ফলে গবেষণার কাজে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় আরও এগিয়ে যাবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যদি আরও বেশি গবেষণামুখী হয়, তাহলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে এই অবস্থান ধরে রাখতে পারবে। গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও প্রযুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘গবেষণার ক্ষেত্রে আমরা একটি উল্লেখযোগ্য স্থান অর্জন করেছি। এই অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা শিক্ষকদের গবেষণায় উৎসাহিত করতে নিয়মিত গবেষণা অনুদান প্রদান করছি। আগে যেখানে গবেষণা প্রেজেন্টেশন অনলাইনে অনুষ্ঠিত হতো, এখন আমরা তা অফলাইনেও আয়োজন করছি ‘
তিনি আরো বলেন, ‘এই অর্জন কোনো একক ব্যক্তির নয়; এটি আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে আমাদের প্রিয় আবু সাঈদের যে স্বপ্ন ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আদর্শ গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

