ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ এবং ডিবিএ- এই চারটি প্রোগ্রাম মিলিয়ে মোট ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী এই সমাবর্তনে অংশ নেন।
অংশগ্রহণকারী ১১৬ জনকে বিবিএ, ১২৬ জনকে এমবিএ, ১২২ জনকে ইএমবিএ এবং ১ জন শিক্ষার্থীকে ডিবিএ ডিগ্রি দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে মুখ্য বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি নবস্নাতকদের দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকের এই মুহূর্ত আমাকে আমার ছাত্রজীবনের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। যখন দেশ তার আর্থসামাজিক পরিচয় পুনর্গঠনের পথে ছিল, আপনাদের মতো আমরাও এক পরিবর্তনশীল সময়ে শিক্ষাজীবন অতিক্রম করেছি। আপনাদের মধ্যে আমি সেই সম্ভাবনা ও অগ্রগতির প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।
বিভিন্ন প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সফলভাবে শিক্ষা সম্পন্ন করার জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বর্তমান আর্থসামাজিক বাস্তবতায় আমাদের প্রয়োজন এমন ব্যবসায়িক পেশাজীবী, যারা জ্ঞান, দক্ষতা, অধ্যবসায়, মানবিকতা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে গড়ে উঠবে। বৈশ্বিক অর্থনীতির এই সন্ধিক্ষণে আমরা এক নতুন ও রূপান্তরমুখী অধ্যায়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছি।
শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রতি উৎসাহিত করে আইবিএ পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ বলেন, "উদ্যোক্তা হওয়ার চ্যালেঞ্জ যেমন কঠিন, তেমনি একটি স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার তৃপ্তি অতুলনীয়। প্রকৃত উচ্চাকাঙ্ক্ষা হলো এমন এক ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা রাখা, যা এখনো দৃশ্যমান নয়।" তিনি শিক্ষার্থীদের গঠনমূলক চিন্তা, বিবেচনাপ্রসূত ঝুঁকি গ্রহণ এবং প্রচলিত ধ্যানধারণাকে চ্যালেঞ্জ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন আইবিএর অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আমিন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, বিশ্বকে যেমন আছে তেমনভাবে মেনে নেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বকে আরও উন্নতভাবে গড়ে তোলাই তাদের দায়িত্ব। তিনি শিক্ষার্থীদের তাদের নিজস্ব সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতন থাকার এবং সততা ও সহমর্মিতার ভিত্তিতে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।
এ বছর ২৬ জন শিক্ষার্থী তাদের অসাধারণ একাডেমিক কৃতিত্বের জন্য ডিরেক্টরস অনার লিস্টে স্থান অর্জন করেন এবং ২ জন শিক্ষার্থী স্বর্ণপদকে ভূষিত হন।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

