ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আলোচকবৃন্দ বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ দেশের আত্মপরিচয় নির্মাণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে তার আপসহীন অবস্থানই তাকে ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে ‘কমল কুঁড়ি’ আয়োজিত “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ: আত্মপরিচয়ের উত্তরাধিকার” শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়।
সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, “জাতীয়তাবাদের শত্রু-মিত্র যেমন আছে, তেমনি এর সঙ্গে বন্ধুত্বও জড়িত। কেউ যদি নিজের দেশ নিয়ে গর্ববোধ করে, তাহলে তার শত্রুও তৈরি হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন প্রকৃত জাতীয়তাবাদী, আর তার দেশপ্রেমই তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল।”
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে জিয়াউর রহমান পূর্ববর্তী শাসকদের নীতির বিপরীতে গিয়ে কাজ করেছেন, যা তার রাজনৈতিক সাফল্যের অন্যতম কারণ। ফারাক্কা বাঁধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বাঁধ চালুর ফলে উত্তরাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পদ্মা নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি এটিকে জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহদী আমিন বলেন, “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এমন একটি ধারণা, যেখানে ধর্ম, বর্ণ বা মতাদর্শ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়।”
তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিফলন রয়েছে এবং ইসলামসহ সব ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়।
স্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে বিএনপির নেতৃত্বেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় তিনি বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথাও উল্লেখ করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, “বর্তমান বাস্তবতায় ছাত্রসমাজের বড় একটি অংশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিনিধিত্ব করে।”
তিনি বলেন, ছাত্রদল কখনো আপস করেনি বা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেনি।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নানা ত্যাগ স্বীকার করেছেন- অনেকে শিক্ষাজীবন, পারিবারিক জীবন এমনকি শারীরিক সক্ষমতাও হারিয়েছেন। এখন আর হারানোর কিছু নেই, বরং অর্জনের সময় এসেছে”।
আব্দুস সালাম আরও বলেন, ছাত্রদল আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও গণতন্ত্র রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাবে। যারা গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন একুশে ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, কবি-সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার, জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা হাবীবা এবং বিএনপি ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এমপি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

