যেভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ঢাবি ছাত্রদল কর্মী

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

যেভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ঢাবি ছাত্রদল কর্মী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য মাহি চৌধুরী অর্ণবের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার রাতে ভুক্তভোগীদের সহায়তায় তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে আজীবনের জন্য স্থায়ী বহিষ্কার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তর ইব্রাহিমপুর এলাকায় ভুক্তভোগীরা কৌশলে মাহি চৌধুরী অর্ণবকে আটক করে। অভিযুক্ত মাহি চৌধুরী নিজেকে বড় মাপের ক্যাটফুড ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং রাজধানীজুড়ে তার ২০ থেকে ২২টি দোকান রয়েছে বলে দাবি করতেন।

এই ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেন।

ভুক্তভোগী আশিকুজ্জামান মোল্লা জানান, আরও বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ডেকে এনে আটক করা হয়। পরে জানা যায়, একই কৌশলে আরও অনেকেই তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

অন্য এক ভুক্তভোগী হিমেল অভিযোগ করেন, মাহি তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। এর মধ্যে কিছু অর্থ ফেরত দিলেও এখনও ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি কয়েক কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন।

মাহি চৌধুরী অর্ণব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসাইন জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের সহায়তায় তাকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতারণার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তীতে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী জানান, মাহির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর থেকেই সংগঠন অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সকল সাংগঠনিক পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতারণায় ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংগঠনটি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন