শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর আওতাধীন নির্মাণাধীন ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণাধীন ১০তলা ছাত্রীহলে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়া শ্রমিকের নাম মো হাসান মিয়া। তিনি ভোলা জেলার পাইঙ্গাসা এলাকার আব্দুল হাইয়ের ছেলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ১০তলা ছাত্রীহলের কাজ করছে দেশ উন্নয়ন কোম্পানি। এই নির্মাণ শ্রমিক দেশ উন্নয়ন কোম্পানির টেকনিশিয়ানের দায়িত্বে ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্মাণ শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে নির্মাণাধীন ভবনে বিদ্যুৎ এর কাজ করার সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।
এ বিষয়ে দেশ উন্নয়ন কোম্পানির একজন প্রকৌশলী জানান, নিয়মানুযায়ী কোম্পানি দুর্ঘটনায় নিহত টেকনেশিয়ানের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার জয়নাল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এই দুর্ঘটনার সবকিছু লিগ্যাল প্রক্রিয়ায় করা হচ্ছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় কাজের জন্য কোন কম্পানির সাথে কাজের চুক্তি পত্র অনুযায়ী দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কোন কিছু বহন করবে না।
নির্মান কাজের চুক্তিপত্রের ৩৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী কাজের শুরুর তারিখ থেকে ত্রুটি সংশোধন সনদপত্র জারি না হওয়া পর্যন্ত, ব্যক্তিগত আঘাত, মৃত্যু এবং কাজ, প্ল্যান্ট, উপকরণ ও সরঞ্জামসহ সম্পত্তির ক্ষতি বা বিনাশের ঝুঁকি, যা প্রধান প্রকৌশলীর ঝুঁকি নয়, তা ঠিকাদারের ঝুঁকি হিসেবে গণ্য হবে।
এ বিষয়ে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ সামসুল হাবিব বলেন, গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন নির্মাণ শ্রমিকের লাশ আনা হয়েছে। আজ তার বাবা এসেছেন। তিনি এসে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।
তিনি আরো বলেন, তার পরিবার ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উভয়ই এটাকে দুর্ঘটনা বলে মামলা না করার আবেদন করেছেন। আমরা তাদের আবেদন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে অনুমতি পেলেই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

