গুমের কোনো ভিক্টিমকে আমরা রাজনৈতিকভাবে দেখতে চাই না। সবার বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমাদের অকৃত্রিম সহানুভূতি আছে। প্রত্যেকটি গুমের ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে বিচার নিশ্চিত করা হবে।
মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি নেতৃত্বে গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা চিফ প্রসিকিউটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় সানজিদা তুলি অভিযোগ করেন আগের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম রাজনৈতিক বিবেচনায় গুমের তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। আর যেন রাজনৈতিক বিবেচনায় গুমের বিচার না হয়, সেই অনুরোধ তিনি চিফ প্রসিকিউটর আমিনুলের কাছে করেন । এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আস্বস্ত করে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল আরো বলেন, আমি বিশ্বাস করতে চাই আগের যিনি চিফ প্রসিকিউটর ছিলেন, তার যেমনভাবে সদিচ্ছা ছিল, আমি একইরকম সদিচ্ছা নিয়েই কাজ করছি। আমি এখানে কে কোন দলের মানুষ—মানে জামায়াতে ইসলামীর একজন মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন, নাকি বিএনপি পরিবারের একজন মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন, এভাবে আদালা করে দেখতে চাই না। আমি দেখতে চাই, যারাই গুমের শিকার হয়েছেন, তারাই গুম পরিবারের সদস্য। এটার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছেÑ কাউন্সিলর একরাম। তিনি কিন্তু আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পনায় তাকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে। সেই বিচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হয়নি, এখন আমরা বিচার করছি।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুমের শিকার প্রায় ২৫০ পরিবার রয়েছেন। প্রথমত আমরা চিহ্নিত করেছি এই লোকগুলো গুমের শিকার হয়েছে। এই ইনভেস্টিগেশন কিন্তু আমাদের হয়ে গেছে। আমরা ২৫০ গুমের যে অভিযোগটা এসেছে, তারা গুমের শিকার হয়েছেন, আমরা প্রাথমিকভাবে এর সত্যতা পেয়েছি। আমাদের ইনভেস্টিগেশনে অলরেডি আমরা পেয়েছি। এটা আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এরা যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক অপহরণের শিকার হয়েছেন, সেটাও আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এবং প্রত্যেক গুম পরিবারের যারা সদস্য, তাদের প্রত্যেকের জবানবন্দি রেকর্ড করছি।
তিনি বলেন,আমাদের কিছু ডেজিগনেটেড অফিসার রয়েছেন, যারা গুমের তদন্তে স্পেশালিষ্ট। যাদের গুম সংক্রান্ত তদন্তে বিশেষ অভিজ্ঞতা আছে, এমন পাঁচজন খুব চৌকস অফিসার এসব মামলা তদন্তের জন্য ঠিক করা হয়েছে। সেই কারণে আপনাদের এটুকু আশ্বস্ত করতে চাই যে, আমাদেরকে অনেক সময় আপনারা দিয়েছেন, আরেকটু যৌক্তিক সময় আপনাদের কাছে চাই, যাতে আমরা এই ইনভেস্টিগেশনটা কনক্লুড করে আমরা দ্রুতই রিপোর্ট সাবমিট করতে পারি।
আমিুনল বলেন, আমরা খুব শিগগির এই পুরা বিষয়টাকে একটা ট্রায়ালে হোক কিংবা সেপারেট ট্রায়ালে হোক, সবগুলো সমন্বয় করে একটা রিপোর্ট বা দুইটা রিপোর্ট সাবমিশনের মধ্য দিয়ে এই সব গুমের বিচারটা নিশ্চিত করব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


