সংস্কারের অভাবে সড়ক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে । এসব সড়কে হেঁটে চলাই এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে । খানাখন্দে ভরা সড়কে যানবাহন চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই হতাহত হচ্ছে মানুষ।
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কের অধিকাংশ অংশজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে তৈরি হচ্ছে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি।
প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ এবং শত শত ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, কৃষক থেকে শুরু করে রোগী বহনকারী যানবাহন, সবাইকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী পূর্ণেন্দু সাহা বলেন, সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কটি প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ। রাস্তাটি আইডিভুক্ত রয়েছে। এটি ফরিদপুর-রাজবাড়ী প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে সড়কটির কাজ শুরু হবে।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান বলেন, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডিকে নির্দেশ দেওয়া আছে। একটি এস্টিমেট করে বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে সড়কটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাট সদর উপজেলার বারাকপুর থেকে ফয়লা বিমানবন্দর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এখন পরিণত হয়েছে দুর্ভোগের সড়কে। দেড় দশক ধরে বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দ। বৃষ্টিতে এসব গর্তে জমছে কাদা-পানি, আর শুকনো মৌসুমে উড়ছে ধুলা। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করায় প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, রোগী, চালক, যাত্রীসহ হাজারো মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বারাকপুর থেকে ফয়লা বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে মাটি বেরিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো আরো ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। ছোট যানবাহনগুলোকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর রশিদ বলেন, ‘সড়কটির বিষয় আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটির বর্ধিতকরণ ও সংস্কারের কাজ করা হবে।’
কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি জানান, রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৪ নম্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাঙছড়ি নতুন পাড়ায় চলাচলের একমাত্র সড়ক ও সেতু ধসে যাওয়ায় চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে টানা বর্ষণের কারণে সড়কটির একটি অংশ মাটির নিচে ধসে যায়। এতে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যাঙছড়ি ডাবল সেতু ও নতুন পাড়া এলাকার এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করেন। পাশাপাশি ঝুম চাষের ফসল ও বিভিন্ন ধরনের সবজি এই সড়ক দিয়ে বাজারে আনা-নেওয়া করা হয়। সড়কটি ধসে যাওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, বয়স্ক মানুষ এবং কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কাপ্তাই ৪ নম্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইমান আলী বলেন, ‘সড়কটি ধসে যাওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করতে কিছু মেরামত কাজ করেছি। স্থায়ীভাবে সড়কটি সংস্কারের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

