ভারতের অযোধ্যায় রাম মন্দিরের কর্মীদের সুযোগ-সুবিধার জন্য ৪ কোটি রুপি অনুদান দিতে চেক দিয়েছিলেন চেন্নাইয়ের এক নারী। তবে মন্দির কর্তৃপক্ষ চেকটি ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর দেখা যায়, ওই নারীর ব্যাংক হিসাবে রয়েছে মাত্র ৩ রুপি। ফলে চেকটি বাউন্স করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টকে চেকটি দিয়েছিলেন। ট্রাস্ট ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক জানায়, চেকের অর্থ পরিশোধের মতো পর্যাপ্ত টাকা হিসাবে নেই। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে ওই নারীকে নোটিশ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যাংক।
ওই নারী মন্দিরে আলাদাভাবে ১০ হাজার রুপি অনুদানও দিয়েছেন। ৪ কোটি রুপি শুধু মন্দিরের কর্মীদের সুযোগ-সুবিধায় ব্যয় করার বিষয়ে ট্রাস্টের কাছে লিখিত নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন তিনি। তবে ট্রাস্ট এমন নিশ্চয়তা দেয়নি। এখন আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে।
এর আগে, ২০২০ সালে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য ‘নিধি সমর্পণ অভিযান’ কর্মসূচির মাধ্যমে ৪৫ দিনে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি রুপি সংগ্রহ করা হয়েছিল। সে সময় প্রায় ১০০ কোটি রুপির চেক প্রথমে বাউন্স করলেও পরে বেশিরভাগ অর্থ আদায় করা হয়। তবে প্রায় ২২ কোটি রুপি এখনও উদ্ধার হয়নি।
বর্তমানে রাম মন্দিরে প্রতি মাসে নগদ, অনলাইন ও চেকের মাধ্যমে প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি রুপি অনুদান আসে। এর মধ্যে চেকের মাধ্যমে আসে প্রায় ১ থেকে দেড় কোটি রুপি।
এ ঘটনায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি ট্রাস্ট। গত জুনে মন্দিরে দেওয়া অনুদানের অর্থ চুরি ও আত্মসাতের ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছিল।
উল্লেখ্য, ভারতের অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ ও এর ঐতিহাসিক ভূমি নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক রয়েছে। ১৯৯২ সালে একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ষোড়শ শতাব্দীর ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙে দেয়, যার ফলে দেশব্যাপী মারাত্মক দাঙ্গা ও প্রাণহানি ঘটে। ২০১৯ সালে ভারতের উচ্চ আদালতের এক রায়ে বাবরি মসজিদের জায়গাটি হিন্দুদের রাম মন্দির নির্মাণের জন্য এবং মুসলমানদের মসজিদ তৈরির জন্য বিকল্প জমি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্দিরটির উদ্বোধন করেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


