দেশে সাম্প্রতিক হাম প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ, গবেষণা জোরদার এবং জাতীয় প্রস্তুতি শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজিস্টস (বিএসএম) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে আয়োজিত এক সেমিনারে এ আহ্বান জানানো হয়।
সেমিনারে জানানো হয়, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে হামের সংক্রমণ ও শিশু মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ল্যাবরেটরি নজরদারি, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, প্রাদুর্ভাবের গতিবিধি বিশ্লেষণ, মলিকিউলার সার্ভেইল্যান্স, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং টিকাদানের ঘাটতি পূরণে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। একই সঙ্গে কমিউনিটি পর্যায়ে ঝুঁকি যোগাযোগ এবং শিশুদের ওপর রোগের ক্লিনিক্যাল প্রভাব মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সেমিনারে তিনজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ বক্তব্য রাখেন—ড. ফিরদৌসী কাদরি, ড. খন্দকার মাহবুবা জামিল এবং ড. সঞ্জয় কুমার দে। তারা সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসক, মাইক্রোবায়োলজিস্ট, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, এপিডেমিওলজিস্ট এবং নীতিনির্ধারকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন।
আলোচনায় দেশের ভ্যাকসিন নিরাপত্তা ও স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং গ্যাভি-এর সহায়তা টিকাদান কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে নিজস্ব ভ্যাকসিন গবেষণা, উৎপাদন ও বিতরণ সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, জীবাণু শনাক্তকরণ, জিনোমিক গবেষণা, বায়োসেফটি এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স পর্যবেক্ষণে মাইক্রোবায়োলজিস্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দেশে এ খাতের পেশাজীবীরা এখনও সীমিত কর্মসংস্থান ও গবেষণা সুযোগের মুখোমুখি হচ্ছেন, যা উন্নয়নের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে জাতীয় ভ্যাকসিন সক্ষমতা জোরদার করা অপরিহার্য। তারা সতর্ক করে বলেন, বহিরাগত সহায়তা কমে গেলে বা ব্যাহত হলে দেশের নিজস্ব সক্ষমতাই হবে প্রধান ভরসা।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, সাম্প্রতিক হাম প্রাদুর্ভাব শুধু একটি জনস্বাস্থ্য সংকট নয়; বরং এটি টিকাদান কাভারেজ বজায় রাখা, ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা এবং নীতিনির্ধারক, একাডেমিক প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যখাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
উল্লেখ, এ সেমিনার আয়োজনে বিভিন্ন করপোরেট ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

