জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটরিয়ামে ছাত্রশিবির নোবিপ্রবি শাখার উদ্যোগে দুই অধিবেশনে এ কর্মসূচি আয়োজিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও ইনস্টিটিউটের প্রায় ১,১০০ নবাগত শিক্ষার্থী অংশ নেন।
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। এতে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, বিজ্ঞান এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান এবং প্রধান আলোচক ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
পরবর্তী সময়ে বেলা ২টায় দ্বিতীয় অধিবেশন আয়োজিত হয়। এতে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন ও শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদসহ আইআইএস ও আইআইটি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এবং প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরিফুর রহমান সৈকতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বলেন, জুলাই বিপ্লবের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল এবং এত ত্যাগের পর যে সূর্য উঠেছিল, তা আবার মেঘে ঢাকা পড়েছে। কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু প্রত্যাশিত পরিবর্তনের পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।
দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসন নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, দেশে বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হলে শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধাও নিশ্চিত করা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে আরিফুর রহমান সৈকত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াই সাফল্যের শেষ নয়; চার বছর পর প্রয়োজনীয় দক্ষতা, সঠিক কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্য নিয়ে বের হতে পারলেই প্রকৃত সফলতা আসবে। মত ও রাজনৈতিক পরিচয়ে ভিন্নতা থাকলেও শিক্ষার্থীদের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি যেকোনো সহিংসতা, অপরাধ ও মাদক থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে নেতৃত্ব বিকাশের প্রতি জোর দেন।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার, নোবিপ্রবির ফলিত গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল করিম, বিএমবি বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি তাহফিমুল মারুফ ও মতিউর রহমান এবং নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা। আলোচনা পর্বের পাশাপাশি ফুনুন শিল্পীগোষ্ঠী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী সব নবাগত শিক্ষার্থীর হাতে বাংলা অর্থসহ পবিত্র কুরআন, নোটপ্যাড, কলম, চাবির রিং ও উপহার সামগ্রীর ব্যাগ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি উপস্থিত সকলের জন্য মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করা হয়।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

