মির্জাগঞ্জে ফসলি জমির মাটি কেটে জলাশয় তৈরির অভিযোগ

মির্জাগঞ্জে ফসলি জমির মাটি কেটে জলাশয় তৈরির অভিযোগ
মির্জাগঞ্জে ফসলি জমির মাটি কেটে জলাশয় তৈরির অভিযোগ। ছবি: আমার দেশ

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে চাকরিচ্যুত এক সাবেক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ভূমি দখল, তিন ফসলি কৃষিজমি কেটে জলাশয় তৈরি এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার ছৈলাবুনিয়া গ্রামের মৃত সত্তার হাওলাদারের ছেলে ইসমাইল হোসেন ওরফে লিটন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি অবৈধভাবে তিন ফসলি কৃষিজমির মাটি কেটে জলাশয় তৈরি করে জলাশয়ের পাশে বৃক্ষরোপণ করেছেন। এতে ওই জলাশয়ের আশপাশের প্রায় ২০ একর ফসলি জমিতে পানি চলাচল ব্যাহত, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, জমির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হওয়া এবং ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ছৈলাবুনিয়া মৌজায় প্রায় দুই একর তিন ফসলি জমি কেটে বিশাল জলাশয় তৈরি করা হয়েছে। জলাশয়ের দুপাশে মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে উক্ত এলাকার প্রায় ১০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করা হয়। এতে তারা কাঙ্ক্ষিত ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসী আরো জানায়, ইসমাইল একসময় সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর পতিত আওয়ামী লীগের আমলে আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। হাসিনার পতনের পর স্থানীয় বিএনপির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এলাকায় জমি দখলসহ বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছেন।

মনির হোসেন বলেন, ইসমাইল হোসেন জোরপূর্বক আমাদের জমি দখল করে মাটি কেটে নিয়েছেন। আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে হত্যাসহ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।

সুলতান আহমেদ বলেন, ইসমাইল হেসেন আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে রেখেছেন। কিছু জমি কেটে দখলে নিয়ে সেখানে জলাশয় তৈরি করেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইসমাইল হোসেন ওরফে লিটন বলেন, বাড়ির পাশে মাছ ও শাকসবজি চাষের জন্য নিজের জমির মাটি কেটে একটি ঘের প্রস্তুত করেছি। ঘেরের দুপাশে নারিকেল ও সুপারি গাছের চারা লাগানো হয়েছে। পাশের জমির ক্ষতি হবে—এমন কোনো গাছপালা রোপণ করা হবে না।

এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রাসেল বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন