প্রকল্পের বরাদ্দ অনুমোদন ও দরপত্র আহ্বান শেষে ঠিকাদারকে কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছিল। তবে কাজ শুরু না করেই পার করে দেওয়া হয়েছে নির্ধারিত সময়। ফলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আটটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় আড়াই কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠাতে হয়েছে।
এর পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে টিআর, কাবিটা ও কাবিখা কর্মসূচির নতুন কোনো বরাদ্দ না আসায় সীতাকুণ্ডের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এতে একদিকে ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে কাজ হারিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষ।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ অর্থবছরে আটটি গ্রামীণ সড়ক পুনর্নির্মাণ ও কার্পেটিং কাজের জন্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে কার্যাদেশ প্রদান করা হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করেননি। ফলে প্রকল্পের মেয়াদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে সম্পূর্ণ অর্থ সরকারি কোষাাগারে ফেরত পাঠায় কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. আলমগীর জানান, মূলত ঠিকাদারের চরম অনীহা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এসব গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ২০২৬ অর্থবছরে টিআর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের বরাদ্দও এখনও সীতাকুণ্ডে এসে পৌঁছায়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম জানান, প্রথম পর্যায়ে টিআর খাতে ৪০ লাখ টাকা, কাবিটা-কাবিখায় ৩০ লাখ টাকা এবং ১০ মেট্রিক টন চাল ও ১২ মেট্রিক টন গম পাওনা রয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় পর্যায়ে টিআর খাতে ৯০ লাখ টাকা, কাবিটা-কাবিখায় ৮৫ লাখ টাকা এবং ৫৬ মেট্রিক টন করে চাল ও গমের বরাদ্দও বর্তমানে আটকে রয়েছে।
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, নতুন বরাদ্দ না থাকায় গ্রামীণ সড়ক সংস্কার কিংবা ছোটখাটো কাঁচা অবকাঠামো মেরামতের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে কায়িক শ্রমের ওপর নির্ভরশীল দিনমজুরদের কর্মসংস্থান মারাত্মকভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে চলতি বর্ষায় সড়কগুলো খানাখন্দ ও কাদাপানিতে একাকার হয়ে পড়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত এবং জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিল্প ও পর্যটন খাতের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা সীতাকুণ্ডে একদিকে যেমন জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, ইস্পাত ও বিভিন্ন ভারি শিল্প গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে চন্দ্রনাথ পাহাড়, ইকোপার্ক, গুলিয়াখালী, বাঁশবাড়িয়া ও মহামায়া লেকের মতো বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। তবে দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গ্রামীণ অবকাঠামোর কারণে এই বিপুল সম্ভাবনার পূর্ণ সুফল মিলছে না। তারা দ্রুত মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ, আধুনিক সড়ক যোগাযোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সুপেয় পানির টেকসই ব্যবস্থার দাবি জানান।
উন্নয়ন স্থবিরতার মধ্যে সীতাকুণ্ডে সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব ও শপথ সংক্রান্ত আইনি জটিলতার বিষয়টিও স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপকভাবে আলোচনায় রয়েছে।
চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী জানান, আইনি প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে এগোচ্ছে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর এলাকায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে সীতাকুণ্ডের ঝুলে থাকা উন্নয়নমূলক কাজগুলো পুনরায় গতি পাবে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


