সমাবর্তন ফি কমাতে জবি প্রশাসনকে ৩ দিনের আল্টিমেটাম

সমাবর্তন ফি কমাতে জবি প্রশাসনকে ৩ দিনের আল্টিমেটাম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি কমানোর দাবিতে প্রশাসনকে তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি আগামী রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার মধ্যে ফি পুনর্নির্ধারণ করা না হলে উপাচার্য ভবনের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, হলবিহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বর্তমান সমাবর্তন ফি অত্যন্ত অযৌক্তিক ও আর্থিকভাবে কষ্টসাধ্য। বিষয়টি উপাচার্যকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। তিনি আগামী রোববারের মধ্যে সমাবর্তন ফি কমিয়ে পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিতে সমর্থন ও সংহতি জানানোর আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্নাতক ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের জন্য নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা এবং মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্নাতকোত্তর পর্যায়ে নিবন্ধন ফি ৬ হাজার ও মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের জন্য নিবন্ধন ফি ৬ হাজার ৫০০ এবং মূল সনদ ফি ১ হাজার টাকা এবং প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য নিবন্ধন ফি ৮ হাজার এবং মূল সনদ ফি ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে স্নাতক পর্যায়ে নিবন্ধন ফি ছিল ৩ হাজার এবং স্নাতকোত্তরে ৪ হাজার টাকা। সে তুলনায় এবার উভয় পর্যায়ে দুই হাজার টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তনে স্নাতক পর্যায়ে ব্যাংক চার্জসহ মোট ফি ছিল ৩ হাজার ৩২০ টাকা। সেই তুলনায় জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনে নিবন্ধন ও মূল সনদ বাবদ নির্ধারিত ৫ হাজার ৫০০ টাকা প্রায় ৬৬ শতাংশ বেশি।

এদিকে ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মুজাহিদ বিল্লাহ এক ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে লেখেন, ‘মনে হচ্ছে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সমাবর্তনের খরচ এবার বেশি। সমাবর্তনের টুপির জাহাজ আটকে গেছে, তাই টাকা বেশি লাগবে।’

শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপের বিষয়টি স্বীকার করলেও নির্ধারিত ফি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় খুব বেশি নয় বলে মন্তব্য করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমিও বুঝতে পারছি। সদ্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটু কষ্টসাধ্য। তবে সবকিছু বিবেচনা করে সিন্ডিকেট ও সমাবর্তন কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেই ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তা ছাড়া আমরা সমাবর্তনের গাউন ও টুপি শিক্ষার্থীদের দেব। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় এটি খুব বেশি নয়।’

উপাচার্য আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় খুললে সিন্ডিকেট ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে সবকিছু বিবেচনা করে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে ফি পুনর্বিবেচনার আশ্বাসের পরও নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ কমেনি। এমন পরিস্থিতিতে জকসু এজিএসের দেওয়া আল্টিমেটামের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই সবার নজর রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন