ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মল চত্বর আধুনিকায়নে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও শিক্ষার্থী ও পথচারীদের জন্য সেটি ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি বৃষ্টির পর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি কুকুরের মৃত্যু এবং অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানোর ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে সূর্যসেন হলসংলগ্ন মল চত্বরে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে নেমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কুকুরটি মারা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পানিতে নামার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণীটির শরীর কাঁপতে থাকে এবং মুহূর্তের মধ্যে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এমনকি শরীর থেকে ধোঁয়া উঠতেও দেখা যায়। ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
প্রত্যক্ষদর্শী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাফিল আলম বলেন, ‘আমার চোখের সামনে কুকুরটি বৈদ্যুতিক শকে মারা গেল। শরীর থেকে ধোঁয়া উঠছিল। ওই সময় আমি নিজেও পানিতে নামতে পারতাম। অনেকেই নামতে যাচ্ছিল, আমি তাদের নিষেধ করি। না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।’
আরেক শিক্ষার্থী ইমরান সায়ের বলেন, ‘কোটি টাকার আলোকসজ্জা এখন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। বাইরে থেকে সুন্দর দেখালেও ভেতরে লুকিয়ে আছে বিপদ।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মল চত্বরের বৈদ্যুতিক লাইন ও আলোকসজ্জা ব্যবস্থা অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমলেই এসব লাইন থেকে বিদ্যুতায়িত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কুকুর মারা গেছে, তাই প্রশাসনের টনক নড়বে না। মানুষ মারা গেলে হয়তো তাদের ঘুম ভাঙত, ব্যবস্থা নিত।’
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক তারের অপর্যাপ্ত সুরক্ষা পুরো এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় জমে থাকা পানিতে বিদ্যুৎপ্রবাহের আশঙ্কা মারাত্মক আকার ধারণ করছে।
এছাড়া কিছু ল্যাম্পপোস্ট চুরি হয়ে যাওয়ায় বৈদ্যুতিক তার উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব তার অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে মেরামত না করে টেপ দিয়ে জোড়া লাগিয়ে রাখা হয়েছে, যা বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে মল চত্বরে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণসহ পুরো এলাকা আধুনিকায়নে প্রায় ২১ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এতে আলোকসজ্জা, ড্রেনেজ, বসার ব্যবস্থা ও নান্দনিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর থেকেই নকশার ত্রুটি, পরিবেশগত ক্ষতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী লুৎফর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. আক্রাম হোসেন বলেন, ‘মল চত্বরের কিছু লাইট চুরি হয়ে যাওয়ায় সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছিল। হঠাৎ বৃষ্টির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’
ঢাবির নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এখানে যে কেউ মারা যেতে পারত। বিষয়টি জানতে পেরে প্রকৌশল বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সতর্ক থাকব।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

