ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একদিকে যানবাহনে জ্বালানি সংকট ও বাড়তি খরচ, অন্যদিকে বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাসের বাড়তি দাম—সব মিলিয়ে নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে বাড়তি চাপ। এর মধ্যে কর্মস্থলে যাতায়াত করতে গিয়ে আগের তুলনায় বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।
স্থানীয় সিএনজি চালকদের অভিযোগ, প্রতিদিন ৩ থেকে ৪০০ টাকার গ্যাস প্রয়োজন। অথচ ময়মনসিংহ গ্যাস স্টেশনে গিয়ে সকাল থেকে অপেক্ষা করে বিকেল পর্যন্ত ১২০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন বলে জানান সিএনজি চালক আব্দুল হালিম।
ফুলবাড়ীয়া পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহ-ঢাকা বাইপাসে ৫০ টাকার ভাড়া ৬০ টাকা। ফুলবাড়ীয়া থেকে ফুলবাড়ীয়া পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে ৫০ টাকার ভাড়া ৬০ টাকা। ফুলবাড়ীয়া থেকে আছিম বাজারে ৪০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা। চালকরা বলেন, যাত্রীদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে ১০ টাকা করে বেশি নিচ্ছি আমরা।
সিএনজি স্টেশনের মাস্টার ইনসান আলী বলেন, গ্যাস ও গাড়ির সংকট থাকার কারণে সামান্য কিছু বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। গ্যাস স্বাভাবিক হলে আগের অবস্থানে ফিরে যাব।
উপজেলার বিভিন্ন রুটেও একইভাবে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আনিস নামে এক চাকরিজীবী বলেন, প্রতিদিন কর্মস্থলে যেতে হয়। আগে যে ভাড়ায় যাতায়াত করতাম, এখন তার প্রায় দ্বিগুণ দিতে হচ্ছে। বেতন তো আর বাড়েনি। এভাবে চলতে থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।
শ্যামলী আক্তার বলেন, মাকে নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছি। বাড়তি ভাড়া না দিলে আপনাদের কাছে সত্য কথা বললে সিএনজি চালক বলবে, যাব না।
অন্যদিকে চালকদের দাবি, গ্যাস সংকটের কারণে স্বাভাবিকভাবে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস কিনে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এতে তাদের পরিচালন ব্যয় বেড়ে গেছে।
ইকবাল নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালক বলেন, গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে। আর যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে, সেটার জন্যও অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে নিতে হচ্ছে। অথবা এলপিজি গ্যাস নিতে হচ্ছে। বাড়তি দামে গাড়ি চালিয়ে আগের মতো আয় থাকছে না। জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া কিছুটা বাড়াতে হচ্ছে।
এদিকে গ্যাস সংকটের সুযোগ নিয়ে অটোরিকশাগুলোও বিভিন্ন রুটে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। ফলে একদিকে জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে বাড়তি ভাড়া—দুই দিক থেকেই চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শহীদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, পত্রপত্রিকার মাধ্যমে গ্যাসের সংকটের কথা শোনার পর আমি ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসচেতনতামূলক আলোচনা করেছি। বাড়তি ভাড়া আদায় ও গ্যাসের সিলিন্ডারের বাড়তি মূল্য নিলে, তা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

