জীবনে বড় হতে গেলে কঠোর শৃঙ্খলার বিকল্প নেই: ঢাবিতে ডেপুটি স্পিকার

প্রতিনিধি, ঢাবি

জীবনে বড় হতে গেলে কঠোর শৃঙ্খলার বিকল্প নেই: ঢাবিতে ডেপুটি স্পিকার

জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য কঠোর শৃঙ্খলা, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি এবং শিক্ষকদের কঠোর শাসনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। তিনি বলেন, “ডিসিপ্লিন না থাকলে জীবনে কখনোই বড় হওয়া যায় না। শিক্ষকদের কঠোরতাই আজকের এই আমি।”

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ইতিহাস বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (আন্ডারগ্র্যাজুয়েট) শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে কায়সার কামাল বলেন, ১৯৮৯–৯০ শিক্ষাবর্ষে তিনিও ইতিহাস বিভাগের একজন নবীন শিক্ষার্থী ছিলেন। এই বিভাগ তাকে শুধু ইতিহাসের জ্ঞানই দেয়নি, বরং মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা, সমাজকে বোঝা এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিয়েছে।

ইতিহাস শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “ইতিহাস শুধু অতীতের ঘটনাবলি জানার বিষয় নয়; এটি এমন একটি আয়না, যার মাধ্যমে একটি জাতি নিজেকে চিনতে শেখে। যে জাতি নিজের ইতিহাস জানে না, সে ভবিষ্যতের পথও সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারে না।”

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ইতিহাস বিভাগে অর্জিত বিশ্লেষণী দক্ষতা তাকে পরবর্তী সময়ে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা, ব্যারিস্টারি, সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ এবং বর্তমানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালনে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ছাত্রজীবনের একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, অনার্স শেষ বর্ষে প্রয়োজনীয় ক্লাসে উপস্থিতি না থাকায় তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। সে সময় বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন কোনো সুপারিশ বা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করেননি।

তিনি বলেন, “আমাকে আরও এক বছর নিয়মিত ক্লাস করতে হয়েছিল। তখন কষ্ট পেলেও আজ বুঝি, শিক্ষকদের সেই কঠোর সিদ্ধান্তই আমাকে শৃঙ্খলার মূল্য শিখিয়েছে। শিক্ষকদের কঠোরতাই আজকের আমি।”

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ, সময়ের মূল্য দেওয়া, অধ্যবসায় ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জীবনে বড় হতে হলে শৃঙ্খলার কোনো বিকল্প নেই।

ইতিহাস বিভাগের গৌরবময় ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে কায়সার কামাল বলেন, এ বিভাগ থেকে দেশের বহু খ্যাতিমান শিক্ষক, গবেষক, প্রশাসক, কূটনীতিক, সাংবাদিক ও রাষ্ট্রনায়ক তৈরি হয়েছেন। বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেও ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির নেতৃত্ব উঠে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছে। ভবিষ্যতেও এ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের আলোকবর্তিকা হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার।

স্বাগত বক্তব্য দেন সহকারী অধ্যাপক ড. শারমিন জাহান চৌধুরী। নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষে অনুভূতি ব্যক্ত করেন মো. তাওহীদ হামিদ ও তাসমিহা জামান সুস্মিতা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক মিঠুন কুমার সাহা।

অনুষ্ঠানে খেলাধুলায় বিশেষ কৃতিত্বের জন্য শিক্ষার্থী জয় কুমার দাসকে ‘অ্যাথলেটিক রোল অব অনার’ প্রদান করা হয়। এছাড়া সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২৬ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন