ফজলুল হক হলের সিসিটিভি ফুটেজ গোপনের প্রতিবাদে ডাকসুর মানববন্ধন

ফজলুল হক হলের সিসিটিভি ফুটেজ গোপনের প্রতিবাদে ডাকসুর মানববন্ধন

শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে এক শিক্ষার্থীকে নিপীড়ন এবং ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ গোপন করার প্রতিবাদে প্রভোস্ট অধ্যাপক ইলিয়াস আল-মামুনের পদত্যাগ দাবি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে ডাকসুর বিভিন্ন সম্পাদক, সদস্য ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনে ডাকসু নেতৃবৃন্দকে ‘নিপীড়কের ঠিকানা- এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘এক, দুই, তিন, চার- নিপীড়ক প্রভোস্ট গদি ছাড়’ এবং ‘বাহ ভিসি চমৎকার- নিপীড়কের পাহারাদার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

মানববন্ধনে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ে আবরার ফাহাদ হত্যার পর সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করে দেওয়া হয়েছিল। একই কায়দায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করতে উঠেপড়ে লেগেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘যে প্রভোস্ট শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে, সে কোনো প্রভোস্ট নয়, সে একজন গুন্ডা। তার অপরাধের জন্য প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

সাদিক কায়েম আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রদলের বিরোধিতার কারণ কী- এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা ঢাবির ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমরা বেঁচে থাকতে এই ক্যাম্পাসে গণরুম-গেস্টরুম ফিরে আসতে পারবে না। কোনো ধরনের নিপীড়ন আমরা মেনে নেব না।’

ছাত্রদলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতি করেন, নিপীড়কদের সহযোগী হবেন না। আপনাদের এমন রাজনীতির কারণেই ডাকসুতে শিক্ষার্থীরা আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।’

ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘আমাদের ভিসি স্যার বিএনপির শিক্ষা সম্পাদক, কিন্তু তিনি ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন না। ফজলুল হক হলে যেভাবে হামলা হয়েছে, সেটা সাবেক প্রক্টর গোলাম রব্বানীর হামলাকেও ছাড়িয়ে গেছে।’

প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যেই ভাষা বোঝেন, আমরা সেই ভাষা জানি। আমরা চুপ করে আছি বলে মনে করবেন না। জুলাইয়ের প্রজন্ম হাসিনাকে যেভাবে প্রতিহত করেছে, আপনাদেরও প্রতিহত করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা লিখে রাখুন, আমি যদি বেঁচে থাকি, তাহলে যারা আমাদের ভাইয়ের ওপর হামলা করেছে, তাদের প্রত্যেককে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’

ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, প্রশাসনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর বিষয়ে গাফিলতি থেকেই বোঝা যায়, প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা ‘শতভাগ সত্য’।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, হাসিনার আমলের মতো এই প্রভোস্ট শিক্ষার্থীদের গেস্টরুম নিচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, যতক্ষণ পর্যন্ত এই ঘটনার বিচার হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’

ডাকসুর আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক সাখাওয়াত জাকারিয়া বলেন, শাহবাগ থানায় মব করে যারা ডাকসু নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা করেছিল, তারাই ফজলুল হক মুসলিম হলের হল সংসদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে তারা মনে করেন।

প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রভোস্ট মহোদয় যে কাজটি করেছেন, এতে শুধু তার পদত্যাগই নয়, বরং তার মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন।’ একই সঙ্গে ফৌজদারি অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে প্রভোস্টের শাস্তিও দাবি করেন তিনি।

মানববন্ধনে ডাকসুর অন্যান্য সম্পাদক ও সদস্য এবং বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন