জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের দুই শিক্ষক ও তিন শিক্ষার্থীর ওপর ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিভাগটি।
রোববার বিকালে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ১০ জুলাই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্য বিভাগের শিক্ষার্থী এবং একটি ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় সমঝোতা করতে গেলে দুই শিক্ষক শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হন।
ঘটনার প্রতিবাদে বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির ১৮৭তম (জরুরি) সভায় সর্বসম্মতিক্রমে হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং সংশ্লিষ্টদের দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ শাস্তির দাবি জানানো হয়। এর আগে, রোববার সকাল থেকে বিভাগের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধসহ তিন দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
তাদের তিন দাবি হলো- রোববারের মধ্যেই তদন্ত কাজ সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; যেসব রানিং স্টুডেন্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর এরকম বর্বর হামলায় সরাসরি জড়িত তাদের অবিলম্বে বহিষ্কার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে; একইসঙ্গে সাবেকদের রাজনৈতিক উদ্দেশে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে ও উল্লেখ্য ঘটনায় জড়িত সাবেকদের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শহীদ সাজিদ অ্যাকাডেমিক ভবনের নিচে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রফিক বিন সাদেককে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মারধর করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা ড. এ কে এম রিফাত হাসান এবং সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলামও হামলার শিকার হন। এছাড়া, শাখা বাগছাস সভাপতি মো. ফয়সাল মুরাদ, মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস হাসান ও যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুককেও ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মারধর করা হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

