মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী খুনের প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ মিছিল

মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী খুনের প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ মিছিল

রাজধানীর মিটফোর্ডে ভাঙারি ব্যবসায়ী চাঁদ মিয়া ওরফে সোহাগকে পাথর দিয়ে হত্যা এবং দেশজুড়ে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠন যুবদলের বিরুদ্ধে চলমান চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে রায় সাহেব বাজার, তাতিবাজার, মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকা ঘুরে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।

বিক্ষোভকারীরা এ সময় ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘চাঁদাবাজের গদিতে আগুন জ্বালো’, ‘বিএনপি চাঁদাবাজ’, ‘মিটফোর্ড খুন কেন, ইন্টারিম জবাব দে’, ‘যুবদলের অনেক গুণ, পাথর মেরে মানুষ খুন’—ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। তারা মিটফোর্ডে প্রকাশ্যে একজন ব্যবসায়ীকে হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জবি শাখার আহ্বায়ক মাসুদ রানা বলেন, “৫ আগস্টের পর আমরা একটি সাম্যের বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। কিন্তু হাসিনার সরকার যাওয়ার পরপরই বিএনপির লোকজন আবার চাঁদাবাজি শুরু করেছে। আবু সাঈদের ভাইরা, শহীদ সাজিদরা, ওয়াসিমরা আজো মরে যায়নি। প্রয়োজনে আবার জুলাই ফিরে আসবে।”

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নূর নবী বলেন, “এই পাথরটা আমার ভাইয়ের ওপর নয়, যেন আমার বুকের ওপর পরেছে। মিটফোর্ডের হত্যাকাণ্ড বিশ্বজিৎ হত্যার প্রতিচ্ছবি। ৫ আগস্টে যেমন ফ্যাসিস্ট প্রতিহত করেছি, এখন বিএনপির সন্ত্রাসকেও প্রতিহত করব।”

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের জবি শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, “শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাসে ফের অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। আমরা বসে থাকব না। সারাদেশে নেমে আসা নৈরাজ্য প্রতিহত করব।

জবি শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ প্রশ্ন তোলেন মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে। তিনি বলেন, “৯ জুলাইয়ের ভিডিও ১১ তারিখ কেন প্রচার হলো? মিডিয়া কী লুকাতে চায়? আমরা মুক্তি চাই—শুধু চাঁদাবাজদের হাত থেকে নয়, দুই রাজনৈতিক পরিবারের দুঃশাসন থেকেও।”

প্রতিবাদ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, স্বাধীন বাংলার একজন নাগরিককে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা হয়েছে কারা করেছে সেটা জাতির কাছে স্পষ্ট হয়েছে তারা মানুষকে হত্যাই করে লাশের উপর দাঁড়িয়ে নৃত্য করেছে। আমরা হুঁশিয়ার করে বলতে চাই ২৪ উত্তর স্বাধীন বাংলাদেশের যারা চাঁদাবাজ কায়েম করতে চাইবে তাদেরকে কখনো মেনে নেবে না।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে চাঁদা না দেওয়ায় মো. সোহাগ (৪৩) নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ও পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি শতাধিক মানুষের সামনে ঘটলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন