রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চার আবাসিক হলে পবিত্র কোরআন শরীফ পোড়ানোর ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রোববার বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে যোগ দেন ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিগণ।
সমাবেশে শাখা ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের স্পদন আল কোরআনকে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা উপলদ্ধি করতে পারছি এটা কারা ঘটিয়েছে। যারা ৫ আগস্টের পরে লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে তারাই এই ষড়যন্ত্র করেছে। এটা ফ্যাসিস্টদের প্রতিবিপ্লব করার চেষ্টা। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়ে বলতে চাই ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এ ঘটনায় জড়িতদের খুজে বের করে তাদের ছাত্রত্ব বাতিলসহ বাংলাদেশের আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ন-আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, সকল দল-মতের বাইরে আমাদের একটায় পরিচয় আমরা মুসলমান। আর সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা সবাই বাংলাদেশি। আমাদের হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে যে সম্প্রীতির বন্ধন সেটা যারা নষ্ট করার চেষ্টা করছেন তাদের হুশিয়ার করে বলে দিতে চাই আপনারা কোনোভাবেই সফল হবেন না। তাই আর যদি কোরআনের ওপর কোনো আঘাত আসে! কোনো রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নয়, একজন মুসলমান হিসেবে আমি সেটা শক্ত হাতে প্রতিহত করব।
বিশ্ববিদ্যালয়েরর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, এক ধরনের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে নতুন পায়তারা করছে একটি কুচক্রী মহল। আমি শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানাতে চাই কারণ তারা ষড়যন্ত্রকারীদের কোনো প্রকার ফাঁদে পা দেয়নি। তারা ভেবেছিল তাদের পরিকল্পনামাফিক শিক্ষার্থীরা একটা সাম্প্রদায়িক পাল্টা হামলা করবে। যাতে ক্যাম্পাসে একটা অরাজকতা সৃষ্টি হয়। কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থীরা তাদের এই ফাঁদে পা না দিয়ে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধতার পরিচয় দিয়েছে।
সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কাউসার আল হাবিব। এ সময় বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টটিউটের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, রোববার (১২ জানুয়ারি) ভোর থেকে দুপুর ১২টার মধ্যবর্তী সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হল থেকে আগুনে পোড়ানো পবিত্র কোরআন শরীফ উদ্ধার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী, শহীদ জিয়াউর রহমান ও মতিহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা অর্ধ-পোড়ানো কোরআন উদ্ধার করেন। এ ছাড়া শহীদ হবিবুর রহমান হলের মসজিদ থেকে কয়েকটি পাতা পোড়ানো অবস্থায় কোরআন উদ্ধার করে হল প্রশাসন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

