১০ ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তবুও অধরা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা জিয়ান

১০ ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তবুও অধরা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা জিয়ান

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা জোবাইরুল হক জিয়ানের অপকর্ম নিয়ে ২২ আগস্ট আমার দেশে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে ভুয়া নারী পরিচয় ব্যবহার করে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ার তথ্য তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর নতুন করে অন্তত ১০ ভুক্তভোগী পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু এত অভিযোগের পরও জিয়ানকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া নারী পরিচয় ব্যবহার, অনৈতিক প্রতারণার মাধ্যমে ব্যক্তিগত যোগাযোগ স্থাপন, স্পর্শকাতর তথ্য ও ছবি-ভিডিও সংগ্রহ এবং পরবর্তীতে তা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও চরম হয়রানি করে আসছিলেন জিয়ান।

এ অবস্থায় অভিযোগকারীদের অনেকেই তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের আশঙ্কা, জিয়ান প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে তাদের বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করতে পারেন। ফলে পরিচয় প্রকাশ করতেও ভয় পাচ্ছেন ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বের করে জিয়ানের শাস্তি দাবি করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত জিয়ানের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ছদহা এলাকায়। তিনি ওই উপজেলার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এমনকি বিদেশে আত্মগোপনে থাকা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একাধিক নেতার সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য মিলেছে। কিন্তু এর পরও তাকে আইনের আওতায় না আনায় চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

পুলিশের দাবি, জিয়ানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে আইনজীবীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো অপরাধে জড়িত থাকলে মামলা না থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে পুলিশ বাদী হয়েও মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, কোনো ব্যক্তি ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা না থাকলেও পুলিশ প্রাথমিকভাবে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত চালাতে পারে। প্রয়োজনে পুলিশ বাদী হয়েও মামলা করতে পারে। মামলা না থাকলে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে না—এমন ধারণা সঠিক নয়।

তিনি আরো বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি পুলিশ বা সরকারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে ব্ল্যাকমেইল করে থাকেন, তাহলে সেটি কেবল ব্যক্তিগত প্রতারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর সঙ্গে জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার বিষয়টিও যুক্ত হয়ে যায়। এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে পুলিশের উচিত দ্রুত তদন্ত পরিচালনা করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা। অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি অব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) নাজমুল হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তাকে (জিয়ানকে) গ্রেপ্তার না করতে কোনো ধরনের নির্দেশনা নেই। এই বিষয়ে বিস্তারিত ও সঠিক তথ্য জেলা পুলিশই ভালো বলতে পারবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন