কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়ি ও বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। পরে ঘণ্টাব্যাপী চলা দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের বাড়িতে ঢোকার সময় আমির হামজার গাড়িতে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময় তার বাড়িতেও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংসদ সদস্যের অভিযোগ, এ সময় পুলিশ সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেননি।
রাত পৌনে ৮টার দিকে মোবাইলে আমির হামজা বলেন, ‘আজ সারাদিন হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নে সফর ছিল। বাড়িতে ঢোকার সময় গাড়িতে হামলা করে তারা। একই সঙ্গে বাড়ির দরজা-জানালায়ও হামলা করে। এ সময় গাড়িতে বসা অবস্থায় আমার হাতে আঘাত লেগেছে, আমার চাচার পায়ে আঘাত লেগেছে। জামায়াতের পাঁচ-ছয়জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।’
তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় পুলিশ সদস্যরা নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। তারা কিছুই করেননি। তাকে মেরে ফেলার জন্য হামলা করা হয়েছে দাবি করে আমির হামজা বলেন, ‘আমি মামলা করব আব্দুল খালেক (গণঅধিকার পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি) ও তৌকিরের বিরুদ্ধে।’
জানা গেছে, সংসদ সদস্য আমির হামজা সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে ‘কটূক্তিমূলক’ বক্তব্য দেন। এর প্রতিবাদে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা শনিবার বিকেলে শহরের ছয়রাস্তার মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। সমাবেশস্থলের কাছেই আমির হামজার বাসভবন।
সমাবেশের শেষ দিকে পুলিশ প্রটোকল নিয়ে আমির হামজা বাড়ি ফেরার সময় সমাবেশস্থলের কাছে এলে তার গাড়ির ভেতর থেকে সমর্থকেরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরে মাগরিবের নামাজের সময় আমির হামজার বাড়ি থেকে তার সমর্থকরা বেসবল ব্যাটসহ লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরের হাইস্কুল মার্কেটে গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আমির হামজার সমর্থকেরা সেখান থেকে মিছিল করে ছয়রাস্তার মোড়ের হরিপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে গণঅধিকার পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল খালেকের অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সংঘর্ষকে ঘিরে শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গণঅধিকার পরিষদের নেতা তৌকির আহমেদ জানান, তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে চলে যাচ্ছিলেন। এ সময় আমির হামজার সমর্থকরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
তবে এ বিষয়ে আমির হামজার দুই কর্মী তাৎক্ষণিকভাবে জানান, গণঅধিকার পরিষদের লোকজনই প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালান। তারা কেবল প্রতিরোধের চেষ্টা করেছেন। তারা জানান, প্রতিপক্ষের হামলায় তাদের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, উত্তেজনা প্রশমিত করতে পুলিশ দুই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

