ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক গ্রাফিতি সংরক্ষণে পুনরায় রং করা ও পুনর্লিখনের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সম্প্রতি গ্রাফিতি পুনর্লিখন নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে প্রশাসন জানিয়েছে, মূল গ্রাফিতির বৈশিষ্ট্য, চেতনা ও তাৎপর্য অক্ষুণ্ন রেখেই আগামী ২৬ জুলাই থেকে এ কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৬ জুলাই (রবিবার) উপাচার্য ভবন থেকে রোকেয়া হল পর্যন্ত গ্রাফিতি রং করা ও পুনর্লিখনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। পুরো কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চারুকলা অনুষদের ডিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং আরবরি কালচার সেন্টারের পরিচালককে।
এ কর্মসূচিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরপরই ক্যাম্পাসে গ্রাফিতি অঙ্কনকারী শিল্পীদের অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আগ্রহী শিল্পী ও সৌখিন শিল্পীদের আগামী ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে ০১৭১৬১১৬০২৩ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে নাম ও ঠিকানা নিবন্ধনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী ছাত্রী নিবাসে জুলাই স্মৃতিচারণ ও আলোচনা, রচনা প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, কবিতা আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।
আগামী ২৬ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টায় বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪: ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি থাকবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান এবং রসায়ন বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস. এ. ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার।
এদিকে, অমর একুশে হলের উদ্যোগে আগামী ১ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হল অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
কবি সুফিয়া কামাল হলের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ৩০ জুলাই সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্বলন। পরদিন ৩১ জুলাই দোয়া মাহফিল, পোস্টার প্রদর্শনী প্রতিযোগিতা, জুলাই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা, স্মৃতিচারণ, কুইজ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ এবং ফটোসেশনের আয়োজন। পাশাপাশি ‘জুলাইয়ের চেতনা: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হবে।
একই দিন বিকেল ৪টায় সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি থাকবেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম।
জগন্নাথ হলে আগামী ২ আগস্ট বিকেল ৩টায় আলোকচিত্র প্রদর্শনী, সন্ধ্যায় গণসংগীত, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, সেমিনার এবং হলের উপাসনালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার শান্তি ও আহতদের সুস্থতা কামনায় প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া শামসুন নাহার হলে আগামী ২৬ জুলাই সন্ধ্যায় গণ-অভ্যুত্থানভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, স্মৃতিচারণ, কবিতা আবৃত্তি, দলীয় নৃত্য এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ‘জুলাই স্মৃতিকথন’ শীর্ষক একটি বিশেষ সংকলন প্রকাশ করবে। পাশাপাশি রোকেয়া হল (৩০ জুলাই), মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল (২৫ জুলাই), বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল (২৪ জুলাই), শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল (২৫ জুলাই), বিজয় একাত্তর হল (২৩ জুলাই) এবং ড. কুদরাত-ই-খুদা হোস্টেল (৫ আগস্ট) নিজ নিজ উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করবে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

