ইশারা ভাষায় ভালোবেসে বিয়ে, ৭ মাসেও ঠাঁই হলো না শ্বশুরবাড়ি

ইশারা ভাষায় ভালোবেসে বিয়ে, ৭ মাসেও ঠাঁই হলো না শ্বশুরবাড়ি
টিটু প্রশ্ন করেন, আর হাওয়া চোখ ও হাতের ইশারায় সব প্রশ্নের উত্তর দেন

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে এক ব্যতিক্রমী বিয়ে। সুস্থ, সবল, কর্মক্ষম যুবক টিটু মিয়া ভালোবেসে বিয়ে করেছেন জন্মগত বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী হাওয়া আক্তারকে। তাদের এই ভালোবাসা এখন এলাকায় প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মধ্যনগর উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের টেপিরকোনা গ্রামের আব্দুল গণির ছেলে দিনমজুর টিটু মিয়া (৩০)। আর কনে দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের মীর্জাপুর গ্রামের মৃত মৌলা মিয়া ও রাশিদা আক্তারের বড় মেয়ে হাওয়া আক্তার (২৭)। হাওয়া জন্ম থেকেই কথা বলতে ও শুনতে পারেন না।

জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে টিটু তার খালার বাড়ি মীর্জাপুর গ্রামে বেড়াতে যান। খালার বাড়ির পাশেই হাওয়াদের বাড়ি। সেখানেই প্রথম দেখা। মাত্র তিন দিনের দেখা-সাক্ষাতেই টিটু হাওয়াকে ভালোবাসার কথা জানান। নিরক্ষর হাওয়া মুখে উত্তর দিতে না পারলেও হাত ও চোখের ইশারায় সম্মতি জানান। কোনো যৌতুক, কোনো দাবি-দাওয়া ছাড়াই কাজী সিরাজুল হক তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা করেন।

বিয়ের ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও টিটু এখনো স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে তুলতে পারেননি। টিটুর বাবা ছাড়া পরিবারের অন্য কেউ এই বিয়ে মেনে নেয়নি। এখন হাওয়ার বাবার জরাজীর্ণ বাড়িতেই থাকছেন। টিটুর পরিবারের শর্ত, হাওয়ার সন্তান হলে তবেই তাকে বাড়িতে নেওয়া হবে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা ঘরের বারান্দায় প্লাস্টিকের চেয়ারে মুখোমুখি বসে আছেন টিটু-হাওয়া। টিটু মুখে প্রশ্ন করেন, আর হাওয়া চোখ ও হাতের ইশারায় সব প্রশ্নের উত্তর দেন। তাদের মধ্যে ভাষার কোনো সমস্যা হয় না।

হাওয়ার দিন শুরু হয় ভোরে ঘর-আঙিনা ঝাড়ু দিয়ে। হাওরের পানিতে হাঁড়ি-পাতিল ধোয়া, গরুকে খড় খাওয়ানো, পাশের বাড়ি থেকে খাবার পানি আনা, গোবর ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে জ্বালানির মুঠা তৈরি - সব কাজই করেন তিনি।

টিটুর মা কাছনা আক্তার বলেন, মেয়েটি কথা বলতে পারে না, কানে কম শোনে, তাই টিটুর ভাই-বোন, বন্ধুরা কেউ মেনে নেয়নি। তবে আমি চেষ্টা করব বউকে ঘরে তুলতে।

টিটুর বাবা কাছা মিয়া বলেন, বিয়ে আল্লাহর দান। টিটুর মেয়েটিকে ভালো লেগেছে তাই বিয়ে করেছে। আমাদের দুই পরিবারই হতদরিদ্র, ভালো ঘর পর্যন্ত নেই। সরকার বা কোনো সংস্থা যদি সাহায্য করত।

হাওয়ার মা রাশিদা আক্তার বলেন, আমার ৬ জনের সংসার, এর মধ্যে দুইজন প্রতিবন্ধী। একজনের আয়ে সংসার চলে না। মেয়ের বিয়ে নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলাম। টিটুর মতো ছেলে যে বিনা যৌতুকে আমার মেয়েকে বিয়ে করবে, তা কখনো ভাবিনি।

একই গ্রামের গৃহিণী ফুলবানু বলেন, আজকাল টাকা ছাড়া ভালো মেয়েরও বিয়ে হয় না। টিটু বিনা দাবিতে বিয়ে করেছে, আমাদের এলাকায় এমন প্রথম।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন