দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের দেওয়া ঘর এখন কেনাবেচা ও হাতবদলের অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দ পাওয়ার পর অনেক ঘরে সুবিধাভোগীরা আর বসবাস করছেন না। কোথাও ঘর ভাড়া দেওয়া হয়েছে, কোথাও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলছে তালা, আবার কোথাও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে টাকার বিনিময়ে ঘর হাতবদলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি বসবাসরত কয়েকজন সরাসরি টাকা দিয়ে ঘর কেনার কথাও জানিয়েছেন।
একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আবুল হোসেন দাবি করেন, ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি নিজে একটি সরকারি আশ্রয়ণের ঘর কিনেছেন। পরিবারের স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা না থাকায়, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে জায়গাসহ ঘরটি আনিছুরের নিকট থেকে কিনেছেন বলে জানান তিনি। সরকারি আশ্রয়ণের ঘর কেনাবেচা করা যায় না—এ বিষয়ে তার জানা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, ফাতেমা নামের এক সুবিধাভোগী খানসামার হাড়িপাড়া এলাকার নন্দিনী নামের এক ব্যক্তির কাছে প্রায় দুই লাখ টাকায় ঘর বিক্রি করেছেন। হযরত নামের আরেক সুবিধাভোগী গফুর মিয়া নামের এক ব্যক্তির কাছে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় এবং হাকিম উদ্দিন নামের আরেক সুবিধাভোগী মহুবার নামের এক ব্যক্তির কাছে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় ঘর বিক্রি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই আশ্রয়ণে ঘর ভাড়া দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। টংগুয়ার আমতলী এলাকার বাসিন্দা বাংগাল বুড়া নামে এক সুবিধাভোগী ঘর পাওয়ার পর থেকে সেখানে নিজে বসবাস না করে ঘরটি ভাড়া দিয়েছেন। একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে, জয়গঞ্জের খেয়াঘাট আশ্রয়ণ প্রকল্পেও। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মোট ১১৮টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫৫টি ঘরে পরিবার বসবাস করছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি ঘর বিক্রি বা হাতবদল হয়েছে। অবশিষ্ট কয়েকটি ঘরও ব্যবহার না হওয়ায়, পড়ে রয়েছে বলে জানান তারা।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা যতদিন থেকে এই আশ্রয়ণের ঘরগুলো পেয়েছি, তখন থেকে স্থানীয় প্রশাসন, চেয়ারম্যান বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তিকে আসতে দেখিনি। প্রায় চার-পাঁচ বছর হবে।’ তিনি আরো দাবি করেন, তারা ভূমিহীন হওয়া সত্ত্বেও সরকারি বিভিন্ন অনুদান থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছাতিয়ানগড় বাবুরহাট এলাকার বাসিন্দা কছিমউদ্দিন কৈপাড়ার বাসিন্দা গাডরের কাছ থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি ঘর কিনেছেন বলে জানা গেছে। আলোকডিহির বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, ‘আমি একদমই ভূমিহীন। অন্যের খামারে রাত্রিযাপন করি। আমার মতো অনেকেই আছে, তারা ঘর পায়নি। আর যাদের জমিজমা আছে, তারাই ঘর পায়। খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘আশ্রয়ণের ঘর বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে বরাদ্দ পেয়েও যারা সেখানে বসবাস করছেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

