বিক্ষোভে ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা

ওসি সাহেব আত্মগোপন থেকে ফিরে আসুন, মামলা নিন

প্রতিনিধি, ঢাবি

ওসি সাহেব আত্মগোপন থেকে ফিরে আসুন, মামলা নিন

রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা গ্রহণে পুলিশের গড়িমসির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা।

তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার পরদিন থানায় গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর দেখা না পাওয়ায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়া আটকে আছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত মামলা গ্রহণ, হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাডেমিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

একই সাথে ক্যাম্পাসে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম রুবেল বলেন, “যে স্থানে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেটি নিজেই একটি থানা- শাহবাগ থানা। অথচ, মামলা করতে গিয়ে সেই থানার ওসিকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

তিনি আরও বলেন, থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনেই এমন ঘটনা ঘটলেও তা প্রতিরোধে ব্যর্থতা এবং পরবর্তী সময়ে মামলা গ্রহণে গড়িমসি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

তিনি ওসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ওসি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আমরা বলবো আপনি আত্মগোপন না করে ফিরে আসুন এবং মামলা গ্রহণ করুন।”

তিনি বলেন, থানার ওসি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা কী বার্তা দেয়? এই হামলার দায় তার উপর সমানভাবে বর্তায়। আমরা আহ্বান করব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে, আপনারা ফ্যাসিবাদী আচরণ করবেন না।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যম সত্য প্রকাশের পরিবর্তে যদি ক্ষমতার পক্ষে দাঁড়াতে বাধ্য হয়, তাহলে রাষ্ট্র ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হয়।

তিনি হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সম্পাদক ও ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মাহবুব রনি বলেন, “যে জায়গায় হামলা হয়েছে, সেটি পুলিশের কম্পাউন্ড। সুতরাং সংশ্লিষ্টদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। অবিলম্বে মামলা গ্রহণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন বলেন, তার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে এমন ঘটনা দেখেননি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যাদের আন্দোলনে অতীতে সহযোগিতা করা হয়েছে, তারাই আজ সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

সমিতির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী নানাভাবে তালবাহানা করে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে। দাবি আদায় না হলে দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

ঢাবি সাংবাদিক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি মানজুর হোছাঈন মাহি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ করতেই হামলার শিকার হন তারা। তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।

এর আগে, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে শাহবাগ থানায় মামলা করতে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অন্তত ১০ জন সদস্য। তারা আগের রাতে একই থানার ভেতরে সংঘটিত হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের ১২ জন চিহ্নিত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ওসির দেখা পাননি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় ছয় ঘণ্টা থানায় অবস্থান করেও মামলা গ্রহণে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এমনকি থানার অন্য কর্মকর্তারাও ওসির অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। পরে রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম অভিযোগপত্র গ্রহণ করলেও ওসি উপস্থিত না থাকায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়া এগোয়নি।

ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম বলেন, “আমরা হামলার শিকার হয়েছি, অথচ মামলা করতে এসে এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। এতে মনে হচ্ছে, প্রশাসন কোনো ‘গ্রিন সিগন্যাল’-এর অপেক্ষায় আছে।”

তিনি আরও বলেন, “একদিকে আমাদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা হয়েছে, অন্যদিকে মামলা গ্রহণে গড়িমসি- এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি চরম অবজ্ঞা।”

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে শাহবাগ থানার ভেতরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন। ঘটনার পরদিন মামলা করতে গেলেও তাৎক্ষণিক কোনো আইনি অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন