একজন আসামি গ্রেপ্তারে আমি সন্তুষ্ট না: তনুর বাবা

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা

একজন আসামি গ্রেপ্তারে আমি সন্তুষ্ট না: তনুর বাবা
ছবি: আমার দেশ

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, আমি আসামি দেখতে চাই, তারা আনে টপ করে ভিতরে ঢুকিয়ে ফেলে । এতে আমি সন্তুষ্ট না । শুধু একজন কেন আরো আসামি ধরতে হবে । বাকিদের কেন ধরছে না । এই একজনকে পুতুলের মতো কুমিল্লায় আনে আর নেয়।

মামলা দায়েরের ১০ বছর পর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা (অব.) হাফিজুর রহমানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

শনিবার দুপুরে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আমান এ আদেশ দেন।

পিবিআই তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, তিন দিন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্যগুলো যাচাইবাছাই করে পরে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, রিমান্ডে আমরা আসামিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো এখন যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সবকিছু এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এছাড়া তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বুধবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হকের আদালত হাফিজুর রহমানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

২০১৭ সালের মে মাসে তৎকালীন তদন্ত সংস্থা সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা জানিয়েছিল। সে সময় ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি হলেও সন্দেহভাজনদের সঙ্গে নমুনা ম্যাচিং (মেলানো) করা হয়নি। এবারই প্রথম কারও নমুনা ম্যাচিংয়ের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে হাফিজুরকে আটক করেন পিবিআইয়ের সদস্যরা। এরপর তাকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত বুধবার বিকেলে কুমিল্লার আদালতে আনা হয়।

এ সময় কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হকের আদালতে তাকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এর আগে ৬ এপ্রিল ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হকের আদালতে হাজির হন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম। আদালতের তলবের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কুমিল্লায় আসেন। এ সময় তিনি মামলার অগ্রগতি জানানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনের ডিএনএ নমুনা মেলানোর আবেদন করেন। আদালত তার আবেদনে সম্মতি দেন। ওই তিনজনের একজন হলেন হাফিজুর। অপর দুজন হলেন ঘটনার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলম। তারাও বর্তমানে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে আছেন। তবে মামলার বাদী ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের দাবি, সৈনিকের নাম শাহীন আলম নয়, জাহিদ হবে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন