জুলাই সনদ বাস্তবায়নে পাহাড় থেকে আওয়াজ আসা উচিত: নাহিদ

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে পাহাড় থেকে আওয়াজ আসা উচিত: নাহিদ
‘পাহাড়ে জুলাই: সমমর্যাদা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একটা সরকার টু থার্ড মেজোরিটি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো প্রতিনিধি নেই। দ্বীপেন দেওয়ানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে কবে হয়েছে আমার জানা নেই। এটা করতে পারছে কারণ সরকার কোনো জবাবদিহির আওতায় নেই। ফলে আমরা মনে করি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে পাহাড় থেকে আওয়াজ আসা উচিত।

রোববার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘পাহাড়ে জুলাই: সমমর্যাদা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সবার সমান নাগরিক অধিকারের পক্ষে। একইসঙ্গে আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা আপসহীন। সবাই মিলে আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করবো। পাহাড়ের বঞ্চনার অবসান করতে হবে। আমরা পাহাড়ে ভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজির কথা শুনতে পাই। আলাদা ধরনের সন্ত্রাস আছে। এসবের সমাধান লাগবে। পাহাড় থেকে সমতল সর্বত্র জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি পাহাড়ের রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি জটিল। এটার একরৈখিক সমাধান নেই। পাহাড়ের নৃগোষ্ঠীগুলো বিভিন্নভাবে বঞ্চিত, সমান মর্যাদা পায় না। আবার বাঙালিরাও নানা বঞ্চনার শিকার। তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বিভাজন, দ্বন্দ্বের কথা শুনি। এটার সুযোগ নেয় বিদেশি শক্তি। আমাদের কাজ হচ্ছে, আমরা সবাই বাংলাদেশি। এ দেশকে উন্নত করলে, সুষম বণ্টন হলে সবাই উপকৃত হবেন। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, নিপীড়নের রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব নিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিৎ আলাপ আলোচনা করে সমাধান বের করা। সামরিক কায়দায় পাহাড়ে খুব বেশি দিন খুব বেশি কিছু অর্জন করা যাবে। তাদেরকে মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে। যারা দ্বন্দ্ব জিইয়ে রেখে সুবিধা নিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সবাই মিলে একটা সমাধানে এসে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে। পুরোনোরা পারেনি, আমরা যারা নতুন আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ৭২ এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছ। সাম্প্রদায়িকতার নামে, ধর্মের নামে সমাজের নামে দেশকে বিভাজিত করে রাখা হয়েছে। আমরা মনে করি এসব বিভাজন দূর করে, জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবো।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সকল জায়গায় আমাদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। পাহাড়ের আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই। আমরা আশাকরি পঞ্চাশ বছর পর আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পাহাড়ে নতুন তরুণ জনপ্রতিনিধি পাবে।

আলোচনা সভায় এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দিনসহ পার্বত্য জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন