প্ল্যান ছাড়া ১০ তলা ভবন

সংবাদ প্রকাশের পর বরিশালে গ্রীন সিটির নির্মাণাধীন ভবনে ‘অবৈধ’ সাইনবোর্ড

সংবাদ প্রকাশের পর বরিশালে গ্রীন সিটির নির্মাণাধীন ভবনে ‘অবৈধ’ সাইনবোর্ড

দৈনিক আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে বরিশাল নগরীর জর্ডন রোড এলাকায় গ্রীন সিটির নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনকে ‘অবৈধ ভবন’ হিসেবে চিহ্নিত করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ভবনটিতে দুটি সাইনবোর্ড টাঙানো হয়।

কোনো প্রকার প্ল্যান পাস না করেই অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগে ডেভেলপার কোম্পানি গ্রীন সিটির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে বিসিসি। এর আগে গত গত ১৮ আগস্ট আমার দেশ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ওইদিনই ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় বিসিসি।

বিসিসি সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কেপিআই ১০-এর নীতিমালা অনুসারে সার্কিট হাউজ সংলগ্ন ২৫ মিটার এলাকার মধ্যে বহুতল ভবন নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। জমির মালিকরা সর্বোচ্চ ২ তলা ভবন নির্মাণ করতে পারবেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এবং সিটি করপোরেশনকে পাশ কাটিয়ে কোনো প্রকার প্ল্যান পাস না করেই সংরক্ষিত এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণকাজ শুরু করে গ্রীন সিটি নামের একটি ডেভেলপার কোম্পানি।

গত ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার তৃতীয় পাতায় গুরুত্ব সহকারে এসংক্রান্ত একটি সংবাদ ছাপা হয়। প্রকাশিত সংবাদটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে বিষয়টি নিয়ে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেন বিসিসি প্রশাসক।

তিনি বলেন, বিসিসির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি বিসিসিকে দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কোথায় কোনো অনিয়ম পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এই প্রতিবেদককে জানান। এমনকি ওই দিনই তিনি ওই বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়ে জমির মালিককে তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সিটি করপোরেশনে জমা দিতে বলেন এবং নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

এদিকে সিটি করপোরেশনের দেওয়া নোটিশের জবাব না দিয়ে কিছুটা সময় চান গ্রীন সিটিকে পাওয়ার অব এর্টনি দেওয়া ভূমির মালিক সালমা জাহান। তবে তাদের জবাবে সন্তুষ্ট না হয়ে নির্মিতব্য ওই ভবনের কাজ বন্ধ করে দিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয় বিসিসি।

এ বিষয়ে বিসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাশ আমার দেশকে বলেন, যেহেতু গ্রীন সিটি নামের আবাসন কোম্পানিটি প্ল্যানের কোনো কাগজপত্র সাবমিট করেনি, সেহেতু ওই ভবনের নির্মাণকাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্মাণাধীন ওই ভবনকে অবৈধ ভবন হিসেবে চিহ্নিত করে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যেই ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হবে এবং পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটভূমি ও জালিয়াতির অভিযোগ:

বরিশাল সিটি করপোরেশন থেকে কোনো প্রকার প্ল্যান পাস না করিয়েই নগরীর প্রাণকেন্দ্র জর্ডান রোড এলাকায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু করে গ্রিন সিটি নামের একটি ডেভেলপার কোম্পানি। ইতিমধ্যেই প্রথম তলার কাজ শেষ করে দ্বিতীয় তলার কাজ শুরু করা হয়েছে। বরিশাল সার্কিট হাউজ লাগোয়া সংরক্ষিত এলাকা জর্ডান রোডে প্ল্যান ছাড়া বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়।

ভূমির মালিক সালমা জাহান আমার দেশকে বলেন, তার স্বামী মরহুম মোস্তফা রফিক আহমেদ খান ৯ তলা ভবনের প্ল্যান চেয়ে সিটি করপোরেশনে একটি আবেদন করেছিলেন। তিনি গ্রীন সিটি ডেভেলপারের সাথে বহুতল ভবনের চুক্তি করেছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পরই তিনি বুঝতে পারেন তিনি একটি ফাঁদে পড়েছেন। এরপর টেনশনে তার স্বামী স্ট্রোক করেন এবং ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ওই জমির ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হিসেবে তিনি এবং তার দুই পুত্র রেজোয়ান আহমেদ খান ও রাফি খান অপি গ্রীন সিটির এমডি মঞ্জুর ফরাজী এবং গ্রীন সিটির কর্মকর্তা ইউসুফ কাজীর সাথে বণ্টন চুক্তি করেন। কিন্তু গ্রীন সিটি কর্তৃপক্ষ তাদের অগোচরে চুক্তিনামায় মালিক হিসেবে তাদের সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করেছে। গ্রীন সিটি অবৈধভাবে নির্মাণকাজ শুরু করে তাদের সাথে প্রতারণা করেছে। প্রয়োজনে তারা পাওয়ার অব এর্টনি বাতিলের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হবেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন